, ,

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহীতে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীকে আড়াল করতে একজন মানসিক রোগীকে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা সাজিয়ে মাদক মামলায় সাবেক সরকারি কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন কে গ্রেফতার

নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানায় মিথ্যা সাজানো মাদক মামলায় ফেঁসে গেলেন সাবেক এক সরকারি কর্মকর্তা ও সিজোফ্রেনিয়া নামক এক বিরল গোগে আক্রান্ত মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী নাসির উদ্দিন| গত ৮ জুন ২০২৬ইং নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থানার মামলা নং-৪, মামলার বাদী: রাজু আহম্মেদ চৌধুরী, পরির্দশক, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় (গোয়েন্দা বিভাগ) কার্যালয়, রাজশাহী|
সূত্র জানায়, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার দেবাঙ্গা পাড়ার মৃত আলহাজ্ব ফজলুল করিমে ছেলে নাসির উদ্দিন| চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর সরকারি চাকুরিতে যোগদান করেন। চাকুরী করাকালীন সময়ে নাসির উদ্দিন সিজোফ্রেনিয়া নামক এক বিরল মানসিক ভারসাম্যহীন রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকুরী করা সম্ভব হয় নাই | এ ঘটনার পর নাসির উদ্দিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়| এতে কিছুটা উন্নতি হলেও মাঝে মধ্যে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন| দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও তিনি কোন বিয়ে সাদী করতে পারেন নি| শারীরিক অক্ষমতা ও মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে তিনি বিয়ে সাদী করতে পারেন নি বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে| তিনি কখনও অন্যায়ের কাজের সাথে যুক্ত ছিলেন না| বরং অসহায় মানুষের কল্যানে জন্য কাজ করতেন|
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে তিনি দীর্ঘদিন বিবাহ করেননি। প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রাজশাহীর কনা নামক এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে পারিবারিক সম্মতি ছাড়াই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথমে চট্টগ্রামে এবং পরে রাজশাহীতে ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
পরিবারের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তি প্রায় শেষ অংশটুকু বিক্রি করে পাওয়া অর্থ নিয়ে তিনি রাজশাহীতে নিজ স্ত্রী সঙ্গে বসবাস করে ব্যবসা করার চেষ্টা করছেন । গত ৮ জুন ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করে। এলাকাবাসী ও পরিবারের দাবি, উদ্ধার হওয়া মাদকের সঙ্গে নাসির উদ্দিনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা আরও দাবি করেন, ওই মাদকের দ্রব্যের কোন দাবিদার না পাওয়ায়, বাসে কোন কক্সবাজারের যাত্রী আছে কিনা মাদকদ্রব্যের লোক জিজ্ঞাসা করলে, তিনি কেবল স্বেচ্ছায় নিজেকে কক্সবাজারের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার পর সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করে, সে প্রতিবাদ করলে তাকে মারাত্মক ভাবে শারীরিক নির্যাতন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নাসির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির প্রায় সকল অংশ বিক্রি করে অসহায় মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন এবং মাদক বিরোধী কর্মকাণ্ড সামাজিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে সক্রিয় ছিলেন। তিনি একজন প্রকৃত সমাজ সেবক। তার বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ শোনা যায়নি।
নাসির উদ্দিনের পরিবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, নাসির উদ্দিনের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।