ফেসবুকে ক্ষোভ, ১৩ আগস্টের পর সরবরাহ বাড়ার আশা
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানা এলাকার বাসিন্দারা। দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কোনো এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। আবার বিদ্যুৎ আসার কিছুক্ষণ পরই ফের চলে যাচ্ছে। এতে বাসাবাড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, দোকানপাট ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান বন্ধ থাকায় অনেকেই ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না। বিদ্যুৎনির্ভর পানির পাম্প বন্ধ থাকায় কোথাও কোথাও পানির সংকটও দেখা দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ছায়েম মিয়া বলেন, “বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দোকান ও প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”
পূবাইলের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকেও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্রাহকরা। জহিরুল ইসলাম লিটন নামে এক ব্যক্তি ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “পূবাইলের কারেন্ট অনেক ভালো, এ ব্যাপারে দুই লাইন করে লিখে যান।” তাঁর পোস্টে অনেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আইনুল ইসলাম বলেন, “রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান দরকার।”
লোডশেডিংয়ের কারণ জানতে চাইলে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পূবাইল জোনাল অফিসের ডিজিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। এজন্য লোডশেডিং বেড়েছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার ইউসুফ আলী স্বদেশ বিচিত্রাকে বলেন, “জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। আগামী ১৩ আগস্টের পর সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা আছে। আশা করছি, তখন লোডশেডিং কমতে পারে।”
স্থানীয়দের দাবি, লোডশেডিংয়ের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।







