, ,

পাবনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুলের আধিপত্য,টিকাদার দের লিফলেট বিতরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

আওয়ামী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম কে ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে মেহেরপুর জেলায় বদলী করা হলে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুইয়া কে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে বদলীর আদেশ রহিত করেন বলে সুত্র নিশ্চিত করে।

আওয়ামী ঘরানার ঠিকাদার হারুন মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠজন হওয়ার সুবাদে আওয়ামীলীগ এর সময় তিনি পাবনা অঞ্চল কে নিজের মত করে ঘুচিয়ে নিয়ে ৯ টি উপজেলার প্রত্যেক উপজেলা প্রকৌশলী থেকে বিভিন্ন অজুহাতে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করেন বলে এলজিইডি সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী প্রতিবেদককে জানায়।
তাছাড়া সদর দপ্তরের কয়েকজন সিনিয়রের নাম ভাংগিয়ে তিনি এ মাসোহারা আদায় করেন এবং কেউ মাসোহারা দিতে অস্বীকার করলে শাস্তি স্বরুপ বদলী করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন বলে জানা যায়৷
তাছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের থেকে পিসির ২% এবং বিল দেওয়ার সময় ৩% টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখেন বলে একাধিক ঠিকাদার নিশ্চিত করেন। একাধিক ঠিকাদার বলেন মনিরুলের বদলির সংবাদে আমরা খুশি হয়েছিলাম কিন্তু টাকার বিনিময়ে তিনি বদলী আটকিয়ে দেওয়ায় ঠিকাদাররা ফুসে উঠছেন, যে কোন সময় বড় কিছু হতে পারে।

কাজ না করে ভুতুড়ে বিল বানিয়ে টাকা আত্নসাত, পাবনার ঈশ্বরদী তে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মানে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম নিরব ভূমিকা পালন করেন৷
উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের সিলিমপুর মোড় থেকে লক্ষি কুন্ডা ইউনিয়নের কদিমপাড়া হাট পর্যন্ত প্রায় ৩ কি:মি: সড়কের কার্যাদেশ পায় ওহী কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
ওহী কনস্ট্রাকশন এর মালিকের সাথে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলামের কমিশন সখ্যতার কারনে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে রাস্তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মনিরুল ইসলামকে পাবনা জেলা থেকে গত ৬ নভেম্বর ২৫ ইংরেজি তারিখে ২৫-৮৩৭স্মারকমূলে মেহেরপুর জেলায় বদলি করা হয়। ১১ নভেম্বর ২০২৫ খ্রি. তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল হতে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়। অন্যথায় একই নির্দেশনায় উক্ত তারিখে তাৎক্ষনিকভাবে অবমুক্ত (Stand Release) বলে গণ্য হবে।
কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনসার্থে এ আদেশ জারি করা হলেও তিনি রাষ্ট্রের আদেশ তোয়াক্কা না করে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করে বদলীর আদেশ রহিত করেন৷

এই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে পাবনার সকল ঠিকাদারবৃন্দ তার অপসরন চেয়ে লিফলেট-পোস্টার বিতরণ করছেন।

২৮-০৭-২০০৪ ইং তারিখে উন্নয়ন প্রকল্প থেকে কোন কাগজপত্র বিহীন উচ্চ আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে তৎকালীন এলজিইডি প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এলজিইডিতে আত্মীকৃত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মনিরুল ইসলামের অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্তে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসে।

অফিসের অফিস সহায়ক মোছাঃ রাফিজা খাতুনের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক থাকার কারনে সে প্রত্যেকদিন রাতে অফিস করার নাম করে সবাইকে ছুটি দিয়ে শুধু রাফিজা ও একাউন্ট্যান্ট সাহেব কে নিয়ে অফিসে মজা মাস্তি করে থাকেন। এলজিইডি সংশ্লিষ্ট একাধিক ঠিকাদার বলেন, রাফিজা কান্ডে জড়িত মনিরুল ইসলাম প্রেমের টানেই নাকি পাবনা ছাড়তে রাজি নন।

দুর্নীতিবাজ নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ১% কমিশন না দিলে বিল প্রদান করেন না এবং বিভিন্ন রকম কাজের ত্রুটি দেখিয়ে ঠিকাদারদের নাজেহাল করে থাকেন। ১% কমিশনের টাকা দিলে বিল প্রদান করেন।

ধানুয়াঘাটা আটঘরিয়ার রাস্তার নির্মান করেন ঈশ্বরদীর সৈকত ঠিকাদার বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশনের নামে সেই কাজের এলজিইডির সরকারি রোড রোলার ব্যবহার করা হয়। প্রায় ১ বছর। অথচ সরকারি কোষাগারে রোলার ভাড়ার টাকা জমা প্রদান করেন নাই। তাতে সরকারের কমপক্ষে ১০-১২ লক্ষ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

চাটমোহর উপজেলা কাচিকাটা রাস্তার কাজে প্রায় ১ বছর যাবৎ এলজিইডি, রোলার ব্যবহার করেছেন। সেই কাজের রোলার ভাড়া কর্তন না করার জন্য উপ-সহকারি প্রকৌশলীদের বদলীর ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রত্যয়ন পত্রে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন এবং এই রাস্তার কাজে অন্তত ১৫-২০ লক্ষ টাকা সরকারের রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে। কাজটি বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন রাজশাহীর নামে।

ঈশ্বরদীর ঠিকাদার সৈকত তার ব্যবসায়িক পার্টনার এবং তার নিজ গ্রামের বাসিন্দা, ঈশ্বরদী উপজেলা, চাটমোহর উপজেলা ও আটঘরিয়া উপজেলার বড় বড় কাজগুলো সৈকত কে দিয়ে করে থাকেন ।

পাবনায় যোগদানের থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত ঠিকাদার সৈকতের যতগুলো সাইড আছে সব সাইডে এলজিইিডির রোলা ব্যবহার করার জন্য সাইদুল ড্রাইভার কে (সাকাই রোড রোলার জাপান) বরাদ্দ দিয়ে রেখেছে। যা সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
টিকাদার থেকে গাওয়া ঘি,মাছ সহ বিভিন্ন উপঠৌকন সংগ্রহ করে সিনিয়রদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া সহ
পরবর্তী পর্বে থাকছে রূপপুর বালিশ কান্ডের মুল হোথা ঠিকাদার শাহাদাৎ সিন্ডিকেটের সমন্বয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এর আদ্যোপান্ত।