, ,

নীলফামারীতে টিটিসির আয়োজনে ‘জব ফেয়ার’: হাজারো তরুণের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন বুনন

নিউজটি শেয়ার করুন

কারিগরি শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে নীলফামারী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি)

আজ ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার’ বা চাকরি মেলা।

সকালে উৎসবমুখর পরিবেশে নীলফামারী সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রাঙ্গণে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) নিয়াজ ভুঁইয়া।
​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টিটিসির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাসুদ রানা, নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, টিটিসির চীফ ইনস্ট্রাকটর মশিউর রহমান, ইনস্ট্রাকটর আব্দুল মতিন ও ইনস্ট্রাকটর রেজওয়ান হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
​’স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন প্রোগ্রাম’-এর অর্থায়নে আয়োজিত এই মেলায় সকাল থেকেই নীলফামারী জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ-তরুণীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে টিটিসি প্রাঙ্গণ। মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা নিজ জেলাতেই খুব সহজে এবং সরাসরি দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত জমা দেওয়ার পাশাপাশি ভাইভা দেওয়ার সুযোগ পান।
​এবারের জব ফেয়ারে দেশের খ্যাতনামা ১০টি শীর্ষস্থানীয় শিল্প ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে সরাসরি চাকরিপ্রার্থীদের সিভি গ্রহণ ও ভাইভা গ্রহণ করে। অংশ নেওয়া উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, সেকশন সেভেন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, সনিক বাংলাদেশ লিমিটেড, উত্তরা সোয়েটার ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড, অভিজাত গ্রুপ, গোল্ড ম্যানুফ্যাকচার বিডি লিমিটেড, ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডিক্যাফটস, আয়েশা আবেদ ফাউন্ডেশন, স্মাইল আর্টস লিমিটেড এবং নীলসাগর গ্রুপ।
​আয়োজন সম্পর্কে টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ রানা জানান, বিগত দিনের জব ফেয়ারে জমা পড়া ৩,০০০ আবেদনের মধ্য থেকে ২,০০০ জন প্রার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছিল। সেই অভূতপূর্ব সাফল্যকে ভিত্তি করে এবার অন্তত ২,৫০০ জন বেকার যুবক-যুবতীর চাকরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে তারা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। স্থানীয় তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত এমন মেলার আয়োজন করে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করাই টিটিসির প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এই মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে আরও বেশিসংখ্য স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়ে এ অঞ্চলের বেকারত্ব দূরীকরণে দৃশ্যমান অবদান রাখতে পারে।
​দক্ষ জনশক্তি গড়ার এই বিদ্যাপীঠে বর্তমানে বিভিন্ন ট্রেডে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র ১১ জন হলেও সব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশে তাদের প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন। বেকারত্ব নিরসনে অনন্য ভূমিকা রাখা এই প্রতিষ্ঠানে খুব শীঘ্রই বিভিন্ন ট্রেডে ১ম ও ২য় শিফটে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে, যা এই অঞ্চলের যুবসমাজকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেবে।