মানবতার সেবায় আবারও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আলোর সন্ধানে ঝিনাইগাতী (আসঝি) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও মানবসেবক হারুনুর রশিদ।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইগাতীর এক সংকটাপন্ন রোগীর জন্য জরুরি ভিত্তিতে A+ গ্রুপের এক ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে রক্তদাতার ব্যবস্থা করা হলেও নানা কারণে রক্তদান সম্ভব হচ্ছিল না। এদিকে রোগীর স্বজনরা শেরপুর সদর হাসপাতালে অবস্থান করে বারবার যোগাযোগ করতে থাকেন।
সেই সময় হারুনুর রশিদ নিজেও শেরপুরে ছিলেন। তিনি তার স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। অথচ তার শেষ রক্তদানের তিন মাস পূর্ণ হতে তখনও সাত দিন বাকি ছিল এবং তিনি গত এক মাস ধরে শারীরিকভাবেও অসুস্থ ছিলেন। তারপরও রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থা বিবেচনায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে নিজেই রক্তদান করেন।
পরে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি জরায়ুর টিউমার রোগীর অস্ত্রোপচার রক্তের অভাবে আটকে আছে। বিষয়টি জানার পর আসঝি-এর শুভাকাঙ্ক্ষী মাওলানা রফিক ও সংগঠনের সদস্য সজিব রাত ১০ টায় এভারকেয়ারে আসেন এবং এসে রক্তদান করেন। রক্তদান শেষে বাসায় ফেরেন রাত ১২ টায়। ফলে ওই রোগীর অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন করার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
একই সময় সদর হাসপাতালে আরও একজন ডিএনসি রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত ওই রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়নি। দিনশেষে দুইজন রোগীর জন্য সফলভাবে রক্তের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়।
হারুনুর রশিদ বলেন, “মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় ইবাদত আর কিছু হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা যতদিন সামর্থ্য দেবেন, ততদিন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, রক্তদাতাদের সঙ্গে সম্মানজনক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ, অবহেলা ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে অনেক স্বেচ্ছায় রক্তদাতা নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ছেন।
উল্লেখ্য, আসঝি ব্লাডলিংক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইগাতী ও আশপাশের এলাকায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের সদস্যরা দিন-রাত নিরলস পরিশ্রম করে জরুরি রোগীদের রক্তের ব্যবস্থা করে মানবতার সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।







