নিউইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন জোহরান মামদানি। পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকেও ব্যাপক তাৎপর্য বহন করছে।
শপথ অনুষ্ঠানে মামদানি বলেন, “নিউইয়র্ক সবার শহর ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে এখানে কেউ দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয়।” তার এই বক্তব্য করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে উপস্থিত সমর্থকদের মাঝে।
তবে শপথের আগেই মামদানিকে ঘিরে কিছু বিতর্ক সৃষ্টি হয়। একটি সমাবেশে তার হাত তোলার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যাকে কেউ কেউ ‘ন্যাৎসি স্যালুট’ বলে অপপ্রচার চালায়। মামদানির দপ্তর একে “ভুল ব্যাখ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি” বলে প্রত্যাখ্যান করে।
জোহরাইন মামদানি একজন প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি অভিবাসী অধিকার, আবাসন সংকট সমাধান, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক বৈষম্য হ্রাসকে তার প্রশাসনের অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য বংশোদ্ভূত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং নিউইয়র্কেই বড় হয়েছেন।
শপথের দিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে মামদানি বলেন, “ভয় ও ঘৃণার রাজনীতি দিয়ে এই দেশকে আর এগিয়ে নেওয়া যাবে না।” এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেও তরুণ ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
নিউইয়র্কের এই নতুন মেয়র যার পুরো নাম জোহরান কোয়ামে মামদানি জন্ম: ১৮ অক্টোবর ১৯৯১, বয়স ৩৪ হলেন একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ, যিনি ২০২৬ সাল থেকে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস্ অফ আমেরিকা দলের সদস্য। তিনি কুইন্সে অবস্থিত নিউ ইয়র্ক রাজ্য বিধানসভার ৩৬তম জেলার নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মামদানির শপথ নিউইয়র্কের বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।







