, ,

নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবের খবরের জের: ৮০ বছরের নিস্ব মানুল্লার দুয়ারে সমাজসেবা কর্মকর্তা, দিলেন তাৎক্ষণিক সহায়তা

নিউজটি শেয়ার করুন

নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবে সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে সহায়তার হাত বাড়াল উপজেলা প্রশাসন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিঘীরপার গ্রামের সন্তানহীন ও আশ্রয়হীন ৮০ বছরের বয়োবৃদ্ধ মানুল্লার করুণ জীবনকাহিনি প্রকাশ্যে আসতেই তার পাশে গিয়ে হাজির হয়েছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন।

​শনিবার তিনি সরাসরি মানুল্লার জরাজীর্ণ বাড়িতে গিয়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং মানবেতর জীবনযাপন নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করেন। বৃদ্ধ মানুল্লার এমন অসহায়ত্ব দেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ আর্থিক সহায়তা দেন এই কর্মকর্তা। ​সুদীর্ঘ জীবনের ৮০টি বছর পার করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরকারি ভাতা বা বয়স্ক ভাতার কার্ড পাননি মানুল্লা—এ কথা শুনে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন। তিনি দ্রুত কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধের জন্য একটি স্থায়ী বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস দেন।

​ঘটনার বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, “নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাবের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই আমি এখানে আসি। সাধ্যমতো তাকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রতিনিধিরা সমাজসেবা কার্যালয়ে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই যত দ্রুত সম্ভব তার বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

​সমাজসেবা কর্মকর্তার এই দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসাথে নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসনের কাছে বৃদ্ধ মানুল্লার স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি টেকসই ঘর ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সাহায্যের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
​উল্লেখ্য, দিঘীরপার গ্রামের মৃত মান্দু ফকিরের ছেলে অসহায় মানুল্লার জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনযাপনের খবরটি প্রথম বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরে ‘নাগেশ্বরী অনলাইন প্রেস ক্লাব’। সেই সংবাদের পরপরই প্রশাসনের এই মানবিক তৎপরতা এলাকায় বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।