, ,

চাকরির অনিশ্চয়তা, এক বছরের বেতনহীন জীবন ও ঋণের বোঝা: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আউটসোর্সিং কর্মচারীর মৃত্যু, ২৮১ পরিবারের কান্না—সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) আওতাধীন দেশের ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টারে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত ট্রাস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানী টেন্ডার পায় তাদের টেন্ডারের মেয়ার ছিল ১৫ দিন। ট্রাস্ট সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড জেনে শুনে পনের দিন মেয়াদে লোক নিয়োগ দের কিন্তু চাকরির প্রার্থীরা জানতোনা যে টেন্ডারের মেয়াদ পনের দিন আছে। কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের চাকরির অনিশ্চয়তা, বেতন বঞ্চনা এবং চরম মানসিক চাপের এক মর্মান্তিক পরিণতি ঘটেছে। সম্প্রতি আউটসোর্সিং কর্মচারী মরহুম মো. মজনুর রহমান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, চাকরি টিকিয়ে রাখার আশায় তিনি ঋণগ্রস্ত হয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে চাকরির কোনো নিশ্চয়তা না থাকা, প্রায় এক বছর ধরে বেতন না পাওয়া, পরিবার চালানোর অসহনীয় চাপ এবং ঋণের বোঝা তাকে চরম মানসিক দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। তার ৭ বছরের একটা বাচ্চা আছে, সেই অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যেই তিনি হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
মো. মজনুর রহমানের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টারে কর্মরত ২৮১টি আউটসোর্সিং কর্মচারী পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহকর্মীদের ভাষ্য, তারা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পুনর্বহাল, বকেয়া বেতন পরিশোধ এবং চাকরির স্থায়ী নিশ্চয়তার দাবিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন, স্মারকলিপি ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। কিন্তু এখনো কার্যকর সমাধান না হওয়ায় প্রতিটি পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, একটি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি সেবার সঙ্গে যুক্ত থেকেও তারা আজ কর্মহীন, বেতনহীন এবং ভবিষ্যৎহীন জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন, সন্তানের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২৮১ জন আউটসোর্সিং কর্মচারী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আবেদন— দ্রুত চাকরি পুনর্বহাল ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ করা।
ভবিষ্যতে কোনো কর্মচারী যেন একই ধরনের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার শিকার না হন, সে জন্য স্থায়ী ও মানবিক সমাধান গ্রহণ করা।
মরহুম মো. মজনুর রহমানের পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
সহকর্মীরা বলেন, “আমরা আর কোনো সহকর্মীকে চাকরির অনিশ্চয়তা, বেতনহীনতা ও মানসিক চাপে হারাতে চাই না। একজন মজনুর রহমানের মৃত্যু যেন শেষ মৃত্যু হয়। সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ২৮১টি পরিবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবে।”
মরহুম মো. মজনুর রহমানের মৃত্যু আজ একটি প্রশ্ন রেখে গেছে—চাকরির অনিশ্চয়তা ও বেতন বঞ্চনার কারণে আর কত পরিবার ধ্বংস হবে? সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক সংকট সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২৮১টি পরিবার আজ সরকারের কাছে একটাই আবেদন জানাচ্ছে—চাকরির নিশ্চয়তা দিন, বকেয়া বেতন পরিশোধ করুন, আর যেন কোনো পরিবার এমন করুণ পরিণতির মুখোমুখি না হয়।