, ,

চাকরিচ্যুতির চক্রান্ত বন্ধের দাবি: দিনাজপুরে গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ৩৫ কর্মচারীর আকুতি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনাজপুরের নশিপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিডব্লিউএমআরআই) ৩৫ জন আউটসোর্সিং কর্মচারীর ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে তাঁদের চাকরিচ্যুত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হঠাৎ করে রুটি-রুজি হারানোর আশঙ্কায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। এই সংকট থেকে বাঁচতে এবং চাকুরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর কাছে এক আবেগঘন ও আইনি আকুতি জানিয়েছেন।

পটভূমি ও নিয়োগের বিবরণ
অনুসন্ধানে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা-১ অধিশাখার স্মারক ও সরকারি বিধি মোতাবেক ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে চুক্তিভিত্তিক সেবাকর্মী নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। উক্ত বিজ্ঞপ্তির আলোকে সম্পূর্ণ সরাসরি পদ্ধতিতে ইলেকট্রিশিয়ান, টেকনিশিয়ান, পাম্প অপারেটর, স্যানিটারি মিস্ত্রি, ওয়েল্ডার, বাবুর্চি, মালী ও গেস্ট হাউস অ্যাটেনডেন্টসহ বিভিন্ন পদে দক্ষ জনবল যাচাই করে ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি ৩৫ জন কর্মচারী যোগদান করেন। এরপর থেকে তাঁরা অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে স্ব-স্ব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

আইন ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন
ভুক্তভোগী কর্মচারীদের পক্ষে মো: তাহমিদুল আলম, রাজু আহমেদ ও শফিউর রহমানসহ ৩৫ জন স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র থেকে জানা যায়, ‘আউটসোর্সিং সেবাগ্রহণ নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী আগের দক্ষ জনবলকে বহাল রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এমনকি অর্থ বিভাগ ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ধারাবাহিকতায়ল গত ১৮/০১/২০২৬ইং তারিখে ২০২৬ ও ২০২৭—এই দুই বছরের জন্য (৩১/১২/২০০৭ পর্যন্ত) উক্ত ৩৫টি সেবা ক্রয়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সম্মতি ও বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ এবং ‘আউটসোর্সিং সেবা পরিবীক্ষণ কমিটি’র কোনো মতামত না নিয়েই গত ২৯/০৪/২০২৬ইং তারিখে প্রতিষ্ঠানটি একতরফাভাবে একটি বিতর্কিত দপ্তর আদেশ জারি করে (যা গত ১৫/০৫/২০২৬ থেকে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে)। এই আদেশের মাধ্যমে পূর্বের দক্ষ জনবলকে বাদ দিয়ে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন লোকবল নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ, যা সরাসরি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের আকুতি ও কান্না
চাকরিচ্যুতির আশঙ্কায় থাকা কর্মচারীদের চোখে-মুখে এখন শুধুই অন্ধকারের ছাপ। ভুক্তভোগী কয়েকজন কর্মচারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমরা বিগত ৫ বছর ধরে দিনরাত এক করে এই প্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়ে আসছি। আমাদের অনেকেরই সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স পার হয়ে গেছে। এই বয়সে হঠাৎ চাকরি চলে গেলে আমরা পরিবার নিয়ে কোথায় দাঁড়াবো? আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা, মা-বাবার ওষুধ কেনার টাকা কীভাবে আসবে? আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।”

আবেদনকারী কর্মচারীদের দাবি, একটি বিশেষ মহল সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই দক্ষ জনবলকে তাড়িয়ে নতুন করে ঠিকাদারি বাণিজ্যের মাধ্যমে নিজেদের ফায়দা লুটতে চাইছে।

মাননীয় কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্মচারীরা নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে এবং অন্যায় চাকরিচ্যুতির হাত থেকে বাঁচতে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। স্মারকলিপিতে তাঁরা বিডব্লিউএমআরআই কর্তৃক জারিকৃত বেআইনি ও নীতিমালা বহির্ভূত দপ্তর আদেশটি অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁদের চাকরির মেয়াদ বহাল রাখা এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জোর আকুতি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী এই ৩৫টি পরিবার এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে মন্ত্রণালয়ের সদয় সিদ্ধান্তের দিকে। দিনাজপুর অঞ্চলের সচেতন মহলও মনে করে, সরকারি নীতিমালা মেনে এই সাধারণ মেহনতি মানুষের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রাখা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব।