, ,

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীনকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা: প্রশাসনিক আচরণ ও পদোন্নতির লবিং নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীনের প্রশাসনিক ভূমিকা, সেবাগ্রহীতাদের প্রতি মনোভাব এবং সাম্প্রতিক পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন তৎপরতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর পূর্বে তিনি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
​প্রশাসনিক আচরণ ও সেবাগ্রহীতাদের ক্ষোভ
​বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের একাংশের দাবি, কার্যালয়ে গিয়ে সেবাগ্রহীতারা কাঙ্ক্ষিত আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে, ড. জিয়াউদ্দীনের প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষের দাপ্তরিক প্রয়োজন মেটানোর উপযোগী নয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানবিক আবেদন বা সুপারিশকেও তিনি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছেন না।
​পদোন্নতির চেষ্টা ও লবিং সংক্রান্ত গুঞ্জন
​প্রশাসনিক অঙ্গনে জোর চর্চা রয়েছে যে, ড. জিয়াউদ্দীন পরবর্তীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে উন্নীত হওয়ার জন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন। কিছু সূত্রের দাবি, প্রভাবশালী নীতি-নির্ধারক মহল বা রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে সচিব পদ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ পদোন্নতির প্রক্রিয়ায় লবিং ও আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জনও বাতাসে ভাসছে, যা প্রশাসনিক স্বচ্ছতায় বিশ্বাসীদের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
​রাজনৈতিক ট্যাগ ও অনিয়মের অভিযোগ
​বিভাগীয় কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দেখা গেছে দ্বিধাবিভক্ত গুঞ্জন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একাংশে তাঁকে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবে দাবি করা হলেও, অন্য কিছু সূত্রের দাবি তাঁর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।
​এছাড়া প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিভাগে ইউএনও এবং এসিল্যান্ড পদায়নে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও আলোচনায় এসেছে। কার্যালয় সূত্রে কেউ কেউ দাবি করছেন, তিনি সূক্ষ্মভাবে বিভিন্ন বদলি ও দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করছেন।
​পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
​প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা ও সততার পরিবর্তে যদি রাজনৈতিক লবিং বা অনিয়ম প্রাধান্য পায়, তবে তা সরকারের সামগ্রিক ভাবমূর্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।