, ,

ঘুষ না দেয়ায় কোর্টের রায় উপেক্ষিত বছরের পর বছর দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন বুলবুল আহমেদ

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি:
হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের রায়, কনডেম অব কোর্ট,পি এস সি,ট্রাইবুনালের রায়,আইন মন্ত্রণালয়, এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ থাকার পরও ঘুষ না দেয়ায় চাকরিতে পুনর্বহাল হচ্ছেনা উপ সহকারী প্রকৌশলী বুলবুল আহমেদ। চাকরি ফিরে পেতে দীর্ঘ দিন অফিসে অফিসে ধর্না দিচ্ছেন তিনি।
সূত্র জানায় মহামান্য আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে ও স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৮৩৪ জনকে পদ শূন্য থাকার সাপেক্ষে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করে পদায়ন করে। সূত্র জানায় ২০১১ সাল থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে প্রায় তিন হাজার ১৫০ জনকে আদালতের রায়ের আলোকে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করে এলজিইডি। জানা গেছে চাকরি স্থায়ী করতে তালিকার ক্রম অনুসরন না করে ঘুষকে প্রাধান্য দেয়া হয়। যারা চাহিদা মত ঘুষ দিয়েছে তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করে পদায়ন করা হয়।
সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোঃ ওয়াহিদুর রহমানের পক্ষে ঘুষের টাকা উঠাতেন সহকারী প্রকৌশলী প্রশাসন জহুরুল ইসলাম মন্ডল, নির্বাহী প্রকৌশলী প্রসাশন আব্দুস সাত্তার ও অপর নির্বাহী প্রকৌশলী শরীফ উদ্দিন। সূত্র জানায় ওই সময় কোর্টের রায় পাওয়া প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কর্মকর্তা কর্মচারীর মধ্য থেকে তিন হাজার ১৫০ জনের নিকট থেকে তিনশ’ কোটি টাকা ঘুষ আদায় করেন। সূত্র জানায় মৌখিক ভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে তালিকার বিভিন্ন স্থান থেকে লোক বাছাই করেন, গোপন কথা ছিল ঘুষ। সূত্র আরো জানায় ওই সময় উপসহকারী প্রকৌশলী বুলবুল আহমেদের কাছে মোটা অংকের ঘুষ চায় ওই চক্র কিন্তু তিনি ঘুষ না দেয়ায় তাকে বিএনপি জামাত আখ্যা দিয়ে তার চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করেনি এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।
এলজিইডির উন্নয়ন প্রকল্প আর ডি ই পি-২৬’এ কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী বুলবুল আহমেদকে ২০১১ সালের হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এলজিইডিকে পুনরায় নির্দেশ দেন শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে বুলবুল আহমেদের চাকরির রাজস্ব খাতে স্থায়ী করার জন্য জি ও জারি করতে কিন্তু ঘুষ না দেয়ায় এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জিও জারি করেনি। বুলবুল আহমেদের রিট মামলা নং ৫০৬৯/২০১১, মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ৪৬০৬৭০১০.০০.০০.০৩৯.২০১২.৩৫১(৪) তারিখ ১০/০৬/২০১৩ ।
বুলবুল আহমেদ ১৪/০৮/১৯৯৬ তারিখ নন গেজেটেড উপসহকারী প্রকৌশলী পদে প্রকল্পে যোগদান করেন। তার পূর্বে ও পরে প্রকল্পে নিয়োগ পেয়েও কোর্টের একটি মাত্র রায়ের আলোকে ঘুষ দিয়ে কোর্টের ১১ টি অবজারভেশন উপেক্ষা করে বিধি বহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে আত্নীয়করন করা হয়। তাদের মধ্যে অনেককে উপজেলা প্রকৌশলী ,সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।শুধু তাই নয় প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে আত্নীয়করন করা হয়েছে তাদের টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পাওয়ার নিয়োম না থাকলেও তারা ঘুষ দিয়ে তা আদায় করে নিচ্ছে এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরুপ হচ্ছ।অথচ বুলবুল আহমেদের পক্ষে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট,কনডেম অব কোর্টের নির্দেশ থাকার পরও ঘুষ না দেয়ায় তাকে রাজস্ব খাতে চাকরিতে বহাল করা হয়নি।
বুলবুল আহমেদের পক্ষে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় থাকার পরেও তার চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী না করায় তিনি ২০১৬ সালে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেন। আদালত শুনানিয়ান্তে আদালতের রায় বাস্তবায়নের আদেশ দেন। এর পরেও বুলবুল আহমেদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী না করায় তিনি এলজিআরডি সচিব বরাবর আবেদন করেন মহামান্য আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে ১০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ের সেই সময়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান বুলবুল আহমেদ কর্তৃক দায়েরকৃত কনডেম অব কোর্ট পিটিশন নং ৪৪৭/২০১৬, রিট পিটিশন নং ৫০৬৯/২০১১ এর সর্বশেষ অবস্থা মন্ত্রণালয়কে জানাতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ও আইন অধি শাখা বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু এলজিইডি ও আইন অধিশাখা কোন উত্তর না দেয়ায় ৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখ এলজিআরডি মন্ত্রনালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব (উন্নয়ন) হেলেনা পারভীন স্বাক্ষরিত আরো একটি পত্র প্রেরণ করেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবর। উক্ত পত্রে উপসহকারী প্রকৌশলী বুলবুল আহমেদ এর যাবতীয় তথ্য প্রেরণের নির্দেশ দেন। ওই পত্রের প্রেক্ষিতে এলজিইডি ১৩/৭/২০২৫ তারিখ বুলবুল আহমেদ কর্তৃক দায়েরকৃত মামলার সকল রায়ের কপির ১৯ পাতার সার্টিফাইড কপি পাঠায় এলজিআরডি সচিব বরাবর। উক্ত পত্রের প্রেক্ষিতে সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধান একটি ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এবিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহনের জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন, পরবর্তীতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী ৪/৯/২০২৫ তারিখ বুলবুল আহমেদের পক্ষে কনডেম অব কোর্টের নির্দেশের ১০ পাতার সার্টিফাইড কপি সচিব বরাবর প্রেরণ করেন। সূত্র জানায় জেসমিন প্রধান মহামান্য হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় অবজ্ঞা করে ভুল ব্যাখ্যায়ীত করায় তাকে লঘু শাস্তি দিয়ে বদলি করে। সূত্র আরো জানায় সিনিয়র সহকারী সচিব জেসমিন প্রধানের পার্সোনাল অফিসার রহিম মোল্লা তার পদবি পরিবর্তন করে মিথ্যা পদবি ব্যবহার করে ভুয়া ফাইল নোট দেন, এটা আদালত অবমাননার শামিল শুধু তাই নয় সুপ্রিম কোর্টের রায় অবজ্ঞা ও ভুল ব্যাখ্যায়িত করে পুণরায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বরাবর পত্র প্রেরণ করেন। একই সাথে এলজিইডির আইন শাখার কর্মকর্তারা ঘুষ না দিলে আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করেন।এই প্রতিবেদক চক্রান্তের শিকার বুল বুল আহমদের বক্তব্য নিতে তার সেল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি খুব সাফারার। আমার সমসাময়িক অনেকে কোর্টের একটি মাত্র রায় এবং রায়ের সাথে যে ডজন খানেক অবজারভেশন আছে যার একটি শ র্তও পূরণ না করে ঘুষ দিয়ে রাজস্ব খাতে স্থায়ী হয়েছে সকল বেনিফিট নিয়েছে এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা লস করছে অথচ আমার পক্ষে হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, ট্রাইব্যুনাল, কনডেম অব কোর্টের রায় আমার পক্ষে থাকার পরও শুধু ঘুষ না দেওয়ায় আমার চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ী করা হয়নি। আমি চরম বৈষম্যের শিকার। সম্প্রতি ওহাব গ্রুপ সহ আরো কয়েকটি গ্রুপের লোকদের পদোন্নতি সহ বিভিন্ন বেনিফিট দেয়া হয়েছে,আপনি আপনার বিষয় চেষ্টা করেছেন কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বুল বুল আহমদ বলেন, বর্তমান প্রশাসন শাখার অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারা সার্বক্ষণিক টাকার পিছনে ঘুরে আমি ঘুষ দিবনা তাই তারা আমার বিষয় উদাশিন।তিনি আরও বলেন , এলজিইডির প্রবাদ পুরুষ এলজিইডির প্রথম ও প্রতিষ্ঠাতা প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ও সেই সময়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রশাসন আর একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি শহিদুল হাসানের সময় আমি নিয়োগ পেয়েছি আমি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করতে পারিনা।