
অমিতাভ চৌধুরী:
বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে গঠিত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন শারদাঞ্জলি ফোরাম। আগামী প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সারা দেশে গীতার শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংগঠনটি।
২০১৪ সালে একটি অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে শারদাঞ্জলি ফোরামের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশের ৪৫টি জেলায় ৫০০টিরও বেশি ‘শারদাঞ্জলি গীতা নিকেতন’-এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব গীতা নিকেতনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার সনাতনী শিক্ষার্থী।
গীতা নিকেতনগুলোতে শিক্ষার্থীদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, খাতা ও কলম দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। গীতা পাঠের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সত্য, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।
শারদাঞ্জলি ফোরামের কার্যক্রম শুধু গীতা শিক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও তীর্থস্থানে সেবামূলক কার্যক্রম, রক্তদান, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কর্মকাণ্ডও পরিচালনা করে সংগঠনটি। দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়েতেও প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা করা হয়।
শারদাঞ্জলি ফোরামের সভাপতি বাবুল চন্দ্র পাল বলেন, গীতা শিক্ষার কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের এর আওতায় আনা প্রয়োজন। এ জন্য সনাতন সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে এসে সংগঠনের শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
শারদাঞ্জলি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক লিটন চন্দ্র পাল বলেন, ভবিষ্যতে গীতা শিক্ষার কার্যক্রম দেশের আরও প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গীতা নিকেতনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা ও শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র তৈরি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মতো কার্যক্রম গ্রহণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংগঠনটির প্রকাশিত উদ্দেশ্য ও আদর্শে বলা হয়েছে, সনাতন ধর্মের মাহাত্ম্য, কৃষ্টি, শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে মানবকল্যাণে কাজ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে মৌলিক ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
শারদাঞ্জলি ফোরামের ঘোষিত স্লোগান— ‘সনাতনী সেতুবন্ধনে কৃষ্টি, সংস্কৃতি, সত্য ও শান্তির অন্বেষণে তারুণ্যের অভিযাত্রা।’ মানবকল্যাণকে মূল লক্ষ্য হিসেবে সামনে রেখে গীতা শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও মানবসেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।






