, ,

গাইবান্ধায় প্রিপেইড মিটার সংযোগে অনিয়ম ও প্রতারণা

নিউজটি শেয়ার করুন

গাইবান্ধায় নেসকোর প্রিপেইড মিটার সংযোগ নিয়ে প্রতারণা ও অবৈধ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাবু ওরফে তেল বাবু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রাহকের কাছ থেকে মিটারের কাজ ও টিন সার্টিফিকেট করে দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার ১০০ টাকা এবং পরবর্তীতে বিল পরিশোধের কথা বলে গত ৭ আগস্ট ২০২৬ আরও ১ হাজার ১৪০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের মিটার নম্বর ৩১০১১০৮৭৬০৩। গ্রাহকের দাবি, নেসকো থেকে বৈধভাবে নতুন প্রিপেইড মিটার সংযোগ নিতে যেখানে আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ টাকার মতো খরচ হওয়ার কথা, সেখানে বাবু বিভিন্ন কাজের কথা বলে গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ হাজার ১০০ টাকা আদায় করেন।

এদিকে গত ১৫ আগস্ট ২০২৬ বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় কয়েকজনের মাধ্যমে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট মিটারে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি বিদ্যুৎ লাইনের মূল/লাইন থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে নেসকো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকও ঝুঁকিপূর্ণ একটি সংযোগের আওতায় পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানা যায়, ওই প্রিপেইড মিটারে গ্রাহক ৫৫৪ টাকা ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স ব্যবহার করেছেন। পরে একই দিন রাত আনুমানিক ১১টা ১৫ মিনিটে লাইনম্যান আতিক ও ড্রাইভার জসিম গিয়ে গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন এবং মিটারটি বিদ্যুৎ অফিসে নিয়ে যান।

অভিযোগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—মিটারটিতে থাকার কথা দুটি সিল, কিন্তু মিটারটিতে কোনো ধরনের সিল ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে বিদ্যুৎ অফিসের দুই ব্যক্তি মিটারটি খুলে নিয়ে যান। ফলে মিটারটি কীভাবে গ্রাহকের কাছে পৌঁছাল, সেটিও এখন তদন্তের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি সম্পদ দালালের হাতে কীভাবে?

এ ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে, তেল বাবু নেসকোর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও তার কাছে প্রিপেইড মিটার এল কীভাবে?

সরকারি সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত একটি প্রিপেইড মিটার কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষের কাছে কীভাবে গেল—এ বিষয়ে নেসকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, তেল বাবু দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের নেসকোর বিভিন্ন কাজ করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে থাকেন। এ ধরনের দালালচক্রের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তেল বাবুর বক্তব্য

এ বিষয়ে তেল বাবুর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, গাইবান্ধায় এভাবে আরও অনেক অবৈধ লাইন চলমান রয়েছে। তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে তিনি ওই সংযোগ দিয়েছেন।

তবে প্রশ্ন হলো—কোন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে অবৈধ সংযোগ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন, তা কি নেসকো কর্তৃপক্ষ জানে? যদি সত্যিই কোনো কর্মকর্তার নির্দেশ বা জ্ঞাতসারে এমন সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা কী ছিল—সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে নেসকোর প্রিপেইড মিটার সংগ্রহ করলেন, কার মাধ্যমে মিটারটি তার হাতে গেল, মিটারে কেন সিল ছিল না, কীভাবে সরাসরি বিদ্যুৎ লাইন থেকে সংযোগ দেওয়া হলো এবং গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া টাকা কোথায় গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা জরুরি।
পাশাপাশি এ ঘটনার সঙ্গে নেসকোর কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।
সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ, নেসকোর বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তারা প্রায়ই দালালচক্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। ফলে দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগও বাড়ছে।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে—গ্রাহককে হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগের বিষয়ে নেসকো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নেসকোর অভ্যন্তরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।