গাইবান্ধায় শীতের আগমন যেন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই হিমেল হাওয়া বইছে, ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে চারপাশ। ধীরে ধীরে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এরই সঙ্গে বাড়ছে শহরের লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের (ধুনকর) ব্যস্ততা।
শহরের কাছারি বাজারে দেখা গেছে, লেপ-তোষক তৈরির দোকানগুলোতে দিনরাত কাজ চলছে পুরোদমে। কেউ পুরোনো লেপ-তোষক ঠিকঠাক করছেন, কেউ বা নতুন অর্ডার দিচ্ছেন উষ্ণতার খোঁজে। অনেকে আবার উঠিয়ে রাখা লেপ-তোষক বের করে রোদে শুকিয়ে নিচ্ছেন ব্যবহারের জন্য।
স্থানীয় ধুনকররা জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরে লেপ-তোষকের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে হিমেল বাতাস ও রাতের কনকনে ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে ক্রেতারা এখন লেপের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন।
বর্তমানে বাজারে শিমুল তুলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৪৬০ থেকে ৬২০ টাকায়, কার্পাস তুলা ৩১০ থেকে ৩৬০ টাকা, কালো হুল ৮৫ থেকে ৯০ টাকা, আর সাদা তুলা ১১০ থেকে ১৩০ টাকায়। তুলা ও কাপড়ের দাম বাড়ায় এবার লেপ-তোষক তৈরির খরচও বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। মাঝারি মানের একটি লেপ তৈরিতে খরচ হচ্ছে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা, আর তোষকের খরচ ১৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত যাচ্ছে।
গাইবান্ধা শহরের প্রায় শতাধিক লেপ-তোষক তৈরির দোকানে এখন কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। পাশাপাশি জেলার সাত উপজেলায় হাট-বাজারে ভ্রাম্যমাণ লেপ-তোষক বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে।
ধুনকরদের ভাষায়, শীত আমাদের জন্য কাজের মৌসুম। যত শীত বাড়বে, তত কাজও বাড়বে।
কুয়াশায় মোড়া গাইবান্ধার ভোরে এখন শীতের পরশ, আর লেপের উষ্ণতায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে স্বস্তি ও প্রশান্তির ছোঁয়া।







