টুটুল হুমায়ুনঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)র ‘রাজশাহী বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প’ ঘিরে প্রকল্প পরিচালক বারেক মন্ডল এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি পাবনার দুইটি নতুন টেন্ডার ওপেনিং এবং যোগ্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান MNC-MNP-JV থেকে নগদ ৩% ঘুষের বিনিময়ে কার্যাদেশ প্রদান। পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম এর সাথে করে ঠিকাদারকে প্রকল্প পরিচালক এর দপ্তরের ৩% ঘুষের টাকা সহ বসিয়ে রাখার খবর জানাজানি হলে গণমাধ্যম কর্মীরা তদন্ত শুরু করে।
প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবদুল বারেক মন্ডলের বিরুদ্ধে নিয়োগে ঘুষ গ্রহণ, নিম্নমানের কাজ অনুমোদন, বিল জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে অনুমোদিত প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কগুলোকে প্রশস্ত ও টেকসই করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি নিয়োগবিধি ও প্রচলিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৫৫ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, উপসহকারী প্রকৌশলী পদে পাঁচ লাখ টাকা, সহকারী প্রকৌশলী পদে সাড়ে তিন লাখ টাকা, কম্পিউটার অপারেটর পদে তিন লাখ টাকা এবং পিয়ন বা অফিস সহায়ক পদে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি কেউ এককালীন অর্থ দিতে না পারলে মাসিক বেতন থেকে কিস্তিতে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থাও ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগপ্রাপ্তদের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন প্রকল্প পরিচালকের পরিচিত বা ঘনিষ্ঠজন।
তাছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে কারিগরি মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
এলজিইডির ডিজাইন ইউনিটের অনুমোদন ছাড়াই কিছু সড়ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করেও কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।
কিছু ক্ষেত্রে বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের আশঙ্কা, এসব অনিয়মের কারণে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত বা উন্নীত সড়কগুলোর স্থায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে
প্রকল্পে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে নিয়োগ পাওয়া কম্পিউটার অপারেটর কানিজ ফাতেমা সোনিয়া কে নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে৷
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পেলেও তিনি অফিসে প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন।
একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভিযোগ, তিনি নিজেকে প্রকল্প পরিচালকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজে হস্তক্ষেপ করেন। সরেজমিনে অফিস পরিদর্শনে তাকে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
সহকর্মীদের একটি অংশের দাবি, দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের চেয়ে অন্যদের কাজে হস্তক্ষেপ করতেই তিনি বেশি সময় ব্যয় করেন।
অভিযোগপত্রে কানিজ ফাতেমা সোনিয়ার বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে প্রভাব বিস্তার করেন। এমনকি অফিস সময়ের বাইরেও প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে তার নিয়মিত চলাফেরার বিষয়টি বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিভিন্ন কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের কাজে প্রভাব বিস্তার করেন এবং দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ করেন। এর ফলে অনেক কর্মকর্তা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলেও একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন ।
গুরুতর অভিযোগ হলো, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন বা কথিত ‘বাইরের সংগ্রহ’-এর কাজটি সোনিয়ার মাধ্যমে ই করে থাকেন প্রকল্প পরিচালক।
চলবে —-







