ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে কিছু ব্যক্তি উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন যা জুলাই ’২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে জুলাই বিপ্লব একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। হাজারো তরুণের রক্তের বিনিময়ে মানুষ ভোটের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে। এর ভালো-মন্দ দিক নিয়ে বিজ্ঞজনেরা আলোচনা করবেন, ইতিহাস মূল্যায়ন করবে।
জুলাই পরবর্তী সময়ে দেশ স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্বে আছে। মানুষ আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে চাইছে। আদালত, প্রশাসন, গণমাধ্যম ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গায় ফিরছে। এমন সময় শান্ত পরিবেশকে বারবার অশান্ত করে তোলার প্রয়োজন কী?
সমস্যা হলো, বক্তব্যের নামে আমরা এখন যে ভাষা শুনছি তা সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বক্তা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু নেতা-কর্মী বর্ষিয়ান জননেতা, মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিকদের নিয়ে এমন শব্দ ব্যবহার করছেন যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। ব্যক্তি আক্রমণ, অশালীন গালি, বিকৃত তথ্য ছড়ানো — এগুলোকে “সাহসী বক্তব্য” বলে চালানো হচ্ছে। আর এই উস্কানির জবাব আসছে হামলা দিয়ে।
ফল কী হচ্ছে? এক পক্ষ উস্কানি দিচ্ছে, অন্য পক্ষ উত্তেজিত হয়ে হামলা করছে। মিটিং-মিছিলে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কমেন্ট বক্সেও এখন এই সংস্কৃতি। বক্তব্য দিলেই হামলা, হামলা হলেই পাল্টা বক্তব্য। এই চক্র থেকে বের হওয়ার পথ কেউ দেখাচ্ছে না।
জুলাই ’২৪ আমাদের শিখিয়েছে রক্তের দাম কত। হাজারো তরুণ জীবন দিয়েছে একটি ভোটের অধিকার, একটি কথা বলার স্বাধীনতার জন্য। সেই আন্দোলনের চেতনা ছিল “অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো”। “আমি ভিন্নমত সহ্য করব” — এই ছিল মূল কথা। সেই চেতনাকে যদি আমরা “অন্যকে গালি দেওয়া” আর “ভিন্নমতকে দমন করা” দিয়ে প্রতিস্থাপন করি, তাহলে শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করা হবে। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা ক্যামেরা, মোবাইল আর যুক্তি হাতে নিয়েছিল। সেই সংযমই তাদের নৈতিক শক্তি দিয়েছিল। আজ যদি আমরাই সেই সংযম ভুলে যাই, তাহলে জুলাইয়ের অর্জন কোথায় থাকবে?
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ছবিটা আমরা দেখেছি হবিগঞ্জে। ২০২৬ সালের ২৮ জুলাই বিকেল। হবিগঞ্জ শহর তখন গরম। জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি। টাউন হলের সামনে জুলাই কর্মসূচি ও সমাবেশ শেষ করে নেতারা সার্কিট হাউসের দিকে যাচ্ছিলেন। সাধারণ মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। কেউ হাত নাড়ছিল, কেউ মোবাইলে ভিডিও করছিল।
হঠাৎ ষ্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় নাসিরুদ্দিনের গাড়ি পৌঁছাতেই ইট-পাটকেল উড়ে এলো। সামনের গাড়ির কাঁচ ভেঙে গেল। চালক প্রাণ বাঁচাতে গাড়ি টেনে সার্কিট হাউসে ঢোকালেন। পেছনের সারজিসের গাড়িটা আটকে গেল। ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। জীবন বাঁচাতে সোনালী ব্যাংক ভবনের ভেতর আশ্রয় নেন। ভেতরের মানুষগুলো তখন আতঙ্কে দরজা বন্ধ করে দিলেন। বাইরে স্লোগান, ভাঙচুরের শব্দ। পুলিশের আসতে আসতে আধাঘণ্টা। ততক্ষণে শহরের বাতাসে বারুদের গন্ধ।
রাত ৮টার দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সারজিস আলমকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়া হয়। রাত ১০টায় প্রটোকল দিয়ে নেতাদের শহর থেকে বের করে দেওয়া হয়। ১৫ জনের বেশি আহত। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মায়েরা সন্তানদের স্কুল থেকে দ্রুত বাসায় ফিরিয়ে আনেন। একটা শান্ত শহর, কয়েক ঘণ্টায় অচেনা হয়ে গেল।
এনসিপি বলছে উস্কানির শিকার হয়েছি। অন্য পক্ষ বলছে উস্কানিমূলক বক্তব্যের কারণেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ। কে দোষী, কে নির্দোষ — সেটা আদালত ঠিক করবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একটা রাজনৈতিক কর্মসূচি কেন রক্তাক্ত হতে হবে? কেন সাধারণ মানুষকে আতঙ্ক নিয়ে ঘরে ফিরতে হবে? হবিগঞ্জের ইই দিনটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, উস্কানিমূলক ভাষা আর হামলা একে অপরের হাত ধরে হাঁটে।
শুধু হবিগঞ্জ না। গণমাধ্যমে আসা খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। একইভাবে ২০২৫ সালের আগস্টে ঝিনাইদহে এনসিপির শোভাযাত্রায় বাধা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গায় এনসিপির সভা-সমাবেশে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুই পক্ষ একে অপরকে উস্কানিমূলক বক্তব্যের জন্য দায়ী করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে, কিন্তু ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামছে না।
এই সবগুলো ঘটনার কমন সূত্র হলো উস্কানিমূলক ভাষা এবং তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে হামলা। মাঝখানে নেই কোনো সংলাপ, নেই কোনো আইনি প্রক্রিয়া। হবিগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহের ঘটনা প্রমাণ করে আজ এনসিপি কাল অন্য দল — এই চক্রে কেউ নিরাপদ না।
এই সংস্কৃতি শুধু বাংলাদেশের না। গণতন্ত্রের সংকট যেখানেই, সেখানেই এটি দেখা যায়। ভারতের ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার কথা ধরা যাক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তিন দিনব্যাপী যে সহিংসতা হয় তাতে ৫৩ জন নিহত এবং ২০০ এর বেশি মানুষ আহত হয়। দাঙ্গার আগের সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা ও সামাজিক মাধ্যমে “দেশদ্রোহীদের গুলি করো” ধরনের স্লোগান এবং মুসলিম বিরোধী ঘৃণা বক্তব্য ছড়ানো হয়। দিল্লি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তীতে মন্তব্য করে যে ঘৃণা বক্তব্য সহিংসতার অন্যতম কারণ। তদন্তে দেখা যায়, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও ফেসবুকের মাধ্যমে গুজব দ্রুত ছড়িয়ে মানুষকে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। দাঙ্গার পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক নেতাদের ঘৃণা বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হিল হামলা আরেকটি উদাহরণ। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে “নির্বাচন চুরি হয়েছে” এই বক্তব্য বারবার প্রচার করা হয়। ৬ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি বড় সমাবেশ থেকে উস্কানিমূলক বক্তব্যের পর হাজারো মানুষ ক্যাপিটল ভবনে ঢুকে পড়ে। ওই হামলায় ৫ জন নিহত হয়, ১৪০ জনের বেশি পুলিশ আহত হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের তদন্ত কমিটি রিপোর্টে বলেছে, দীর্ঘদিনের ভিত্তিহীন উস্কানিমূলক বক্তব্যই মানুষকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ভাষা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করে।
মিয়ানমারের ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রেও একই প্যাটার্ন। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফেসবুকে রোহিঙ্গা বিরোধী ঘৃণা বক্তব্য, ভুয়া ছবি ও গুজব ছড়ানোর ফলে রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে জনসমর্থন দেওয়া হয়। রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হয়, “সোশ্যাল মিডিয়া গণহত্যায় ভূমিকা রেখেছে।” সেখানে ঘৃণা বক্তব্যের পর সরাসরি গ্রামে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মানুষ হত্যার ঘটনা ঘটে।
তাহলে দেখুন, উস্কানি + হামলা = গণতন্ত্রের মৃত্যু। এই সমীকরণ পৃথিবীর সবখানে এক।
কেন এই সংস্কৃতি বাড়ছে? প্রথমত: রাজনীতির ভাষার অবক্ষয়। আগে রাজনীতিকরা প্রতিপক্ষের নীতির সমালোচনা করতেন। এখন ব্যক্তির চরিত্র, পরিবার নিয়ে কথা বলেন। এই ভাষা শুনতে শুনতে কর্মীরাও শিখে যায়। দ্বিতীয়ত: সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদম। ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব যে ভিডিওতে গালি বেশি, উত্তেজনা বেশি, সেটাকে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। কারণ তাতে এনগেজমেন্ট বেশি। ফলে নেতারা বুঝে গেছেন, ভদ্রভাবে কথা বললে ভিউ আসবে না। তৃতীয়ত: বিচারহীনতার সংস্কৃতি। উস্কানি দিলেও শাস্তি নেই। হামলা করলেও শাস্তি নেই। আমাদের লোক হলে ছাড় পাওয়া যায়। এই নিশ্চয়তা মানুষকে বেপরোয়া করে তোলে। চতুর্থত: ঐতিহাসিক ক্ষত। ১৯৭১, ১৯৯০, ২০০২, ২০২৪ — প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটের পর আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখেছি। এক পক্ষ ক্ষমতায় এসে অন্য পক্ষকে দমন করেছে। ফলে আমরা আগে আঘাত না করলে ওরা করবে এই মানসিকতা তৈরি হয়েছে।
এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হলে চারটি স্তরে কাজ করতে হবে। প্রথমত: রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বকে সামনে এসে পরিষ্কার করে বলতে হবে উস্কানিমূলক ভাষা ও হামলা আমাদের নীতি না। যারা দলের নাম ভাঙিয়ে মারামারি করবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখে গণতন্ত্র আর কাজে মব এই দ্বিচারিতা চলবে না। দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আচরণবিধি করতে হবে। বক্তৃতায় কী বলা যাবে, কী বলা যাবে না। লঙ্ঘন করলে শাস্তি।
দ্বিতীয়ত: আইনের শাসন ও প্রশাসনের ভূমিকা। পুলিশ ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। যে-ই উস্কানি দিক, আর যে-ই হামলা করুক, আইন সবার জন্য সমান। আমাদের লোক বলে কাউকে ছাড় দেওয়া হলে, কাল আবার একই ঘটনা ঘটবে। শুধু ঘটনার পর না, ঘটনার আগে প্রতিরোধ দরকার। যেখানে উস্কানিমূলক সভা হচ্ছে, সেখানে আগে থেকে মনিটরিং দরকার। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও ঘৃণা ছড়ানোতেও আইনের সঠিক প্রয়োগ দরকার। তবে সেটা যেন ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার না হয়। আইন হবে ঢাল, তলোয়ার না।
তৃতীয়ত: গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা। টিভি চ্যানেলগুলোকে বিতর্কের নামে চিৎকার প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে হবে। উপস্থাপকদের দায়িত্ব নিয়ে বলতে হবে এই ভাষা আপনি ব্যবহার করতে পারবেন না। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটককে বাংলাদেশের জন্য আলাদা কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড করতে হবে। ঘৃণা বক্তব্য শনাক্ত করে তা ডিমোনিটাইজ করা, রিচ কমিয়ে দেওয়া।
চতুর্থত: নাগরিক সচেতনতা ও শিক্ষা। আমাদেরও দায় আছে। ইউটিউবের ভিউ আর ফেসবুকের রিচের জন্য কেউ আগুন নিয়ে খেললে আমরা সেটা শেয়ার না করি। এই বক্তব্য শুনলে মাথা গরম হয়ে যাবে এমন কন্টেন্ট বয়কট করি। স্কুল-কলেজে নাগরিক শিক্ষা ও মিডিয়া লিটারেসি বাধ্যতামূলক করতে হবে। সন্তানদের শেখাতে হবে, দ্বিমত মানেই শত্রু না। প্রতিপক্ষ মানেই শত্রু না।
জুলাই আমাদের দিয়েছে একটি সুযোগ। রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ার সুযোগ। নতুন সংবিধান, নতুন নির্বাচন ব্যবস্থা, নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সুযোগ। এই সুযোগকে যদি আমরা গালি আর হামলার রাজনীতি দিয়ে নষ্ট করি, তাহলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা চাই বিতর্ক, কিন্তু সংলাপের টেবিলে। আমরা চাই প্রতিবাদ, কিন্তু ব্যানার-পোস্টারে। আমরা চাই পরিবর্তন, কিন্তু ব্যালটের মাধ্যমে। লাঠি দিয়ে, ইট দিয়ে, গালি দিয়ে না।
হবিগঞ্জের সেই বিকেল, গোপালগঞ্জের রাস্তা, ঝিনাইদহের শোভাযাত্রা — সব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে আমরা কোন দিকে যাচ্ছি। আজ এক দলের কর্মসূচিতে হামলা, কাল অন্য দলের। এই পথের শেষ কোথায়? গৃহযুদ্ধ? নাকি আবার একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র?
উস্কানিমূলক বক্তব্য দিলেই হামলা এই নিন্দনীয় সংস্কৃতি এখনই বন্ধ করতে হবে। নইলে জুলাইয়ের অর্জন ঘোলাটে হয়ে যাবে, আর জনগণ আবার মুখ ফিরিয়ে নেবে। রাজনীতিকরা মনে রাখবেন, মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা দেখছে কে গালি দিচ্ছে, আর কে সমাধান দিচ্ছে। কে আগুন জ্বালাচ্ছে, আর কে পানি ঢালছে। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ তার জবাব দেবে।
আসুন, আমরা সবাই মিলে শপথ করি। কথা হবে যুক্তিতে, দ্বন্দ্ব হবে আদর্শে, প্রতিযোগিতা হবে উন্নয়নে। হামলা আর হুমকির বাংলাদেশ আমরা আর দেখতে চাই না।
লেখক: অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন, সাবেক পরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর ও কলামিষ্ট







