, ,

উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারির বিরুদ্বে চাঁদাবাজির অভিযোগ : চাঁদার দাবিতে হোমনা কুমিল্লা রোডের একতা পরিবহন বন্ধ

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে চাঁদার দাবিতে হোমনা-কুমিল্লা রুটের একতা পরিবহনের সাতটি গাড়ি চার দিন ধরে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জনপ্রিয় এই পরিবহনের চলাচল বন্ধ থাকায় কয়েক দিন ধরে হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একই সঙ্গে শতাধিক পরিবহন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তিতাস উপজেলা এলাকায় একতা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে একটি অটোরিকশার দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর তিতাস থানায় পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। এ সময় বাস মালিকপক্ষ আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ নগদ অর্থ প্রদান করে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এরপর গত বুধবার সন্ধ্যায় তিতাস উপজেলার কলাকান্দি এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কুমিল্লাগামী একতা পরিবহনের পরপর কয়েকটি গাড়ি একদল যুবক আটকে দেয় বলে অভিযোগ। এ সময় চালকদের মারধর করে গাড়ির চাবি নিয়ে গাড়িগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে রাখা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একতা পরিবহনের মালিকপক্ষের অভিযোগ, এ ঘটনায় তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার নির্দেশনা রয়েছে। বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও আবদুল আজিজ সরাসরি গাড়ি আটকের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে দুর্ঘটনায় একজন অটোরিকশাচালক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু একতা পরিবহনের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। আহত ব্যক্তির ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য গাড়িগুলো আটক করা হয়েছে। গাড়ি আটক করা হলে বাস মালিকরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় আসবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে, আটক হওয়া একতা পরিবহনের মালিক মো. আল আমিন বলেন, দুর্ঘটনায় আহত সিএনজি যাত্রীদের প্রত্যেকের সঙ্গে তারা সরাসরি যোগাযোগ করেছেন এবং আপস-মীমাংসা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যয় বাবদ নগদ অর্থ প্রদান করেছেন। অটোরিকশাচালক নিজের ভুলের দায়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এখন তার সন্ধান পাওয়া গেলে তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

মো. আল আমিন আরও বলেন, গাড়ি আটকে রাখায় যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি শ্রমিকদের আয় বন্ধ হয়েছে এবং মালিকপক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

একতা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, সড়কে গাড়ি চলাচলের সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং মানবিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় এসব ঘটনার সমাধানও করা সম্ভব। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গাড়ি আটকে রেখে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি ও আর্থিক ক্ষতি করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।

এদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যায় কলাকান্দিতে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়ার ব্যক্তিগত কার্যালয়ে একতা পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে উপস্থিত পাঁচজন গাড়ির মালিকের দাবি, সেখানে মেহেদী হাসান সেলিম ভূঁইয়া প্রকাশ্যে বলেন, হোমনা-কুমিল্লা রুটের মতো তিতাসেও চাঁদা দিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। পরিবহন নেতারা এসে তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আটক গাড়িগুলো ছাড়া হবে না বলেও তিনি জানিয়েছেন বলে মালিকরা অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

একতা পরিবহনের মালিক-শ্রমিকরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের জন্য কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।