, ,

ঈদকে সামনে রেখে গলাচিপায় আইনশৃঙ্খলা জোরদারের নির্দেশনা, মাদক ও কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর বার্তা

নিউজটি শেয়ার করুন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ এবং নাগরিক সমস্যার সমাধানে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার এবং মাদকবিরোধী অভিযান আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক হলরুমে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক। সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ জামান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিলন সিকদার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সজল দাস, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ফারুক উজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার, উপজেলা দুদক প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, শিক্ষক, ইমাম পরিষদের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
সভায় বক্তারা বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উপজেলায় গবাদিপশু চুরি ও ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোরবানির পশুর হাট ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানোর দাবি জানানো হয়।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, উপজেলার কিছু এলাকায় সন্ধ্যার পর মাদকসেবী ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পর্দার আড়াল থেকে সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে বলেও অভিযোগ উঠে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তরুণ সমাজ বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মত দেন উপস্থিত প্রতিনিধিরা।
মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও স্বচ্ছ ও বিতর্কমুক্ত রাখতে অভিযানের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সম্পৃক্ত রাখার প্রস্তাবও উঠে আসে সভায়।
এছাড়া উপকূলীয় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগের প্রশংসা করা হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
গলাচিপা পৌরসভার চলমান খাল খনন কার্যক্রম, হোটেল-রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, বাসি খাবার পরিবেশন এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রবের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্যে ওসি মো. জিলন সিকদার জানান, সাম্প্রতিক বিশেষ অভিযানে ২০ জনকে সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়েছে এবং মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ জামান বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরের আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
সমাপনী বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক মাদক নির্মূলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”
এছাড়া সরকারি আবাসিক এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত আড্ডা ও অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁয় অনিয়ম ও বাসি খাবার পরিবেশনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন ইউএনও।
তিনি বলেন, “গলাচিপাকে আরও নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”