হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আমানত শাহ কোম্পানির মালিকানাধীন বৈকুণ্ঠপুর চা বাগানে দুই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গাছ চুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ টক অফ দ্যা গার্ডেন হিসাবে রুপ নিয়েছে । এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ চা শ্রমিকরা ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ম্যানেজার বাংলো ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ম্যানেজার শামসুল হক ভুইয়া পালিয়ে যান। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য চা বাগান বন্ধ ঘোষণা করা হয়, এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাগানের ম্যানেজার শামসুল ইসলাম ভূইয়া ও ডেপুটি ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ গত কয়েক বছরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই হাজারো ঘনফুট কাঠ কেটে বিক্রি করেছেন। শ্রমিকরা এ বিষয়ে বারবার প্রতিবাদ জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে মালিক কর্তৃপক্ষের আত্নীয়তার সুবাদে মহিউদ্দিনের নীলনকশায় বন বিভাগের অনুমতি ছাড়াই ছায়া গাছ কেটে সাভার করছে।
সম্প্রতি বন বিভাগ বাগান এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক ঘনফুট কাঠ জব্দ করে। এ সময় স্থানীয় দুই সাংবাদিকের উপস্থিতিতে জব্দ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে, চা বোর্ড, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই এসব গাছ কাটা হয়েছে এবং বিক্রির অর্থ শ্রমিক কল্যাণে ব্যয় করা হয়নি।
বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি ও শ্রমিকদের আরও অভিযোগ— দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজাররা বাগানের বড় গাছ কেটে পাচার করছেন, বিনা অনুমতিতে মাটি বিক্রি করছেন, বাগানে রাস্তা ও পানীয় জলের অব্যবস্থা রয়েছে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বকেয়া রাখা হচ্ছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাগানের ভিতরে একটা অংশ বহিরাগতদের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে। যা ভুমি ব্যবস্থাপনা আইনের পরিপন্থী।
বিভিন্ন অযুহাতে বাগান বন্ধ ঘোষনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাগান চালু, এ যেন বৈকুন্ঠপুর চা বাগানে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত দোষীদের শাস্তি ও বাগানের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
ম্যানেজার শামসুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, একটি গোষ্ঠী চক্রান্তমূলকভাবে এসব অভিযোগ করছে। যে কয়টি গাছ কাটা হয়েছে, তা শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় হয়েছে। কোম্পানির অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছে।
ডেপুটি ম্যানেজার গোলাম মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি কোনো আইন লঙ্ঘন করিনি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমরা নিজেরাই লাগানো গাছ কেটেছি।
স্থানীয় জগদীশপুর বন বিভাগ বিটের বিট কর্মকর্তা মো. গোলাম কাদির বলেন,গাছ কাটার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঠ জব্দ করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিলেট বিভাগের বন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান,চা বাগানে গাছ কাটতে হলে বন বিভাগের অনুমতি নিতে হয় এবং ২০ শতাংশ রাজস্ব দিতে হয়। অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা আইনবিরুদ্ধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







