, ,

আকস্মিক পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্যাহার

নিউজটি শেয়ার করুন

​স্টাফ রিপোর্টার,আবদুল আউয়াল নোয়াখালী।
১৬/০৬/২০২৬ইং

কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চরম অব্যবস্থাপনা, নোংরা পরিবেশ এবং চিকিৎসকদের দেরিতে উপস্থিতির প্রমাণ পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহারের (ক্লোজড) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

​আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মোবাইল ফোনে তিনি এই প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন।

​অব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশে মন্ত্রীর ক্ষোভ

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ হাসপাতালে এসে উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালের পুরুষ, নারী, শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগসহ বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও টয়লেটগুলোর নোংরা অবস্থা দেখে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

​কর্মস্থলে অনুপস্থিত অধিকাংশ চিকিৎসক
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসকদের যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও, অধিকাংশ চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে হাসপাতালে আসেন। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিয়ে এমন উদাসীনতা ও নিয়মভঙ্গ দেখে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা দূর করতে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও তাগিদ দেন।

​”জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বরদাশত করা হবে না। চিকিৎসকরা সময়মতো আসবেন না, হাসপাতাল নোংরা থাকবে—এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। যারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, তাদের পদে থাকার কোনো অধিকার নেই।”

— স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
​কঠোর হুঁশিয়ারি
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত না হয় এবং চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করা না যায়, তবে এর চেয়েও আরও বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​মন্ত্রী যখন হাসপাতাল পরিদর্শনে যান, তখন তাঁর সঙ্গে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসির উদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

​