, ,

আঁকাবাঁকা, ফাঁকাফাঁকা ও উঁচুনিচু দাঁত কেনো হয়?”

নিউজটি শেয়ার করুন

ডাঃ খোন্দকার আসীর ইনতিসার (প্রিয়ম)
বিডিএস, ডি কনজারভেটিভ
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (কনজারভেটিভ ডেন্টিস্ট্রি এন্ড এন্ডডন্টিক্স)
ডেন্টাল ইউনিট, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ
চেম্বারঃ টিথ ডেন্টাল কেয়ার, মোহাম্মদপুর

মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থাতেই শিশুর মুখের হাড়ের ভেতর দাঁত গঠন হতে থাকে। সেই দাঁত জন্মের পরে ৬ মাস বয়সে মুখের ভেতর উঁকি দেয়। আর ৬ বছর বয়সে এই দুধ দাঁত গুলো নড়ে পড়ে যাওয়া শুরু করে। সেই সাথে মুখে নতুন স্থায়ী দাঁতের আগমন শুরু হয়। কিন্তু এই স্থায়ী দাঁত গুলো যদি সঠিক ভাবে, সঠিক সময়ে, সঠিক যায়গায় না আসে তাহলেই ঘটে যত বিপত্তি। শুরু হয় দাঁত ফাঁকা অথবা বাঁকা, উঁচু অথবা নিচু হয়ে মুখে বিন্যাস হওয়া।
কেনো ও কিভাবে দাঁতগুলো এমন হয়?
সময়ের সাথে সাথে শিশুদের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন হচ্ছে। আগে একসময় শিশুরা ঘরের সাভাবিক খাবারের সাথে সাথে বিভিন্ন শক্ত খাবারও গ্রহন করত। শক্ত খাবার বলতে টোস্ট বিস্কুট, আঁখ, পেয়ার, আপেল এগুলো। সেই যায়গা আজ দখল করেছে “প্রোসেসড ফুড” যেমন নরম খাবার হিসেবে নুডুলস, আপেলের জুস প্রভৃতি। তাই নড়তে ও পড়তে দেরী হচ্ছে। মুখে স্থায়ী দাঁত বাঁকা ঊঠে যাচ্ছে বা দাঁতের পেছন দিয়ে দাঁত উঠে যাচ্ছে।
কোন কোন শিশুর মিস্টি খাবার ও চকলেটে আসক্তি, ঘুমের আগে দাঁত ব্রাশ না করা, ঘুমের মাঝে ফিডার বা স্তন পানের অভ্যাসের কারনে দুধ দাঁতগুলোতে সহজেই “নার্সিং বোটল ক্যারিজ” অর্থাৎ গর্ত হচ্ছে ও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই অনেক সময় বাধ্য হয়ে সময়ের আগেই কিছু দুধ দাঁত ফেলে দেয়া লাগছে। তাতে করে পাশের দাঁত ফাঁকা স্থানে চেপে আসছে ও স্থায়ী দাঁত ওঠার উপযুক্ত যায়গা না পাওয়ার দরুন দাঁত বাঁকা উঠছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দাঁত থেকেও উঠছে না।
অনেক শিশুদের আঙ্গুল চোষার অভ্যাস বা প্যাসিফায়ার (চুষনি) ব্যাবহারের কারনে মুখের তালু ডেবে যায়। এমতাবস্থায় উপরের মাড়ির দাঁত উঁচু হতে পারে এবং দীর্ঘদিনের অভ্যাসে আঙ্গুলের চাপে নিচের মাড়ির দাঁত ভিতরে ঢুকে গিয়ে নিচু হতে পারে।
জন্মগত ও গঠনগত ভাবে অনেক মানুষের হাড় বাড়তি বা উঁচু থাকে। সে ক্ষেত্রে উঁচু হাড়ের সাথে সাথে দাঁত গুলোও উঁচু হতে পারে। চোয়ালের হাড়ের তুলোনায় দাঁত বড় হলেও দাঁত উঁচু-নিচু বা আঁকাবাঁকা হতে পারে। অপরদিকে ছোট ছোট দাঁতের কারণে দাঁত ফাঁকা-ফাঁকা হয়।
যে কোন বদোভ্যাস যেমন জিহবা দিয়ে দাঁত ঠেলা দেয়া, পিন দিয়ে দাঁত খোচানোর অভ্যাস, কলম কামড়ানোর অভ্যাস এর কারণেও দাঁত ফাঁকা হতে পারে। মুখের ভেতর কোন দাঁতের অনুপস্থিতি বা ফেলে দেয়া হলেও দাঁত সরে গিয়ে ফাঁকা হয়ে যায়, যেটা কিনা যে কোন বয়সেই হতে পারে।
প্রতিকার নাকি প্রতিরোধঃ
অবশ্যই প্রতিকার। ছোটবেলা থেকেই সঠিক নিয়মে দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস থেকেই প্রতিকারের শুরু। বছরে নিয়মিত ২ বার একজন বিডিএস ডেন্টাল সার্জনের কাছে চেকআপ করলে কোন সমস্যা শুরুতেই ধরা পড়ে এবং তাঁর সমাধান ও করা যায়। এছাড়া বেশিরভাগ সমস্যা অর্থোডন্টিক চিকিৎসা যা কিনা ব্রেসেস চিকিৎসা নামে পরিচিত তা দিয়ে সমাধান করা যায়। যদিও অর্থোডন্টিক চিকিৎসা কিছুটা ব্যায়বহুল ও সময় সাপেক্ষ কিন্তু তাঁর ফলাফলও চমৎকার। হাড়ের অসামঞ্জস্যতার কারনে দাঁতে সমস্যা হলে কিছু ক্ষেত্রে সার্জারীর মাধ্যমেও ও ব্রেসেস চিকিৎসার সমন্নয়ে তা ঠিক করা যায়।