ভোলা প্রতিনিধি: প্রসবজনিত ফিস্টুলা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সন্দেহভাজন রোগী শনাক্তকরণ এবং তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসার আওতায় আনতে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী প্রসবজনিত ফিস্টুলা শনাক্তকরণ ও রেফারেল ক্যাম্পেইন।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুব কবীর।
এ সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সংশ্লিষ্ট আরএমও ডা. দিব্যেন্দু রায়সহ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সহায়তায় এবং সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB)-এর সার্বিক সহযোগিতায় ভোলা জেলায় ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. মো. মাহবুব কবীর বলেন, বাংলাদেশ সরকারের ২০৩০ সালের মধ্যে প্রসবজনিত ফিস্টুলা নির্মূলের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ ধরনের অনুসন্ধান ও শনাক্তকরণ ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইতোমধ্যে মাসব্যাপী ও ধারাবাহিকভাবে ফিস্টুলা অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক নারী দীর্ঘদিনের শারীরিক কষ্ট থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন।
তিনি আরও বলেন, তজুমদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠকর্মীরা নিজ নিজ কর্ম এলাকায় প্রসবজনিত ফিস্টুলার সম্ভাব্য রোগীদের অনুসন্ধান ও শনাক্ত করবেন। এ কাজে স্বাস্থ্য পরিদর্শক (HI), সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক (AHI), স্বাস্থ্য সহকারী (HA), পরিবার কল্যাণ সহকারী (FWA), পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (FWV) এবং পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক (FPI)-সহ সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।
ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উপজেলা ও কমিউনিটি পর্যায় থেকে সন্দেহভাজন রোগীদের শনাক্ত করার পর তাদের ভোলা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ফিস্টুলার ধরন নিশ্চিত করা হবে। পরে চিহ্নিত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রেফার করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শনাক্ত রোগীদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। চিকিৎসা শেষে প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসন সহায়তার আওতায় আনা হবে, যাতে তারা সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে যেতে পারেন।






