গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। অভিযানে তিনজন দস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি মানকী টুপি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ থানার মামলা নং-২৭ (তারিখ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬), ধারা ৩৯৪/৩৪ দণ্ডবিধি অনুযায়ী দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দুলাল পূর্বপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী মো. মশিউর রহমান (৪০) গত ১৮ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে তার দোকানের খুচরা ও পাইকারি বিক্রির নগদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে নিয়ে কর্মচারী মো. আব্দুল কাদেরকে সঙ্গে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ১৪ নম্বর চন্ডিপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সীচা এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩/৪ জন দস্যু তাদের পথরোধ করে।
এ সময় দস্যুরা ভিকটিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দস্যুদের একজন ধারালো ছুরি দিয়ে মশিউর রহমানের পিঠে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে দস্যুরা পুনরায় ছুরি ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও ফুলা জখম করে টাকা ছিনিয়ে নেয়। ভিকটিমকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার কর্মচারীকেও মারধর করা হয়। পরে ভিকটিমের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে দস্যুরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) এবং এ-সার্কেলের তত্ত্বাবধানে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-
আসিফ (১৯), আল আমিন (১৯) ও নাজমুল ইসলাম (১৯)। তারা সকলেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং সীচা দারুল উলুম ইসলামিয়া কওমি মাদ্রাসার ছাত্র। ওই মাদ্রাসা এলাকা থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আসামিদের কাছ থেকে দস্যুতায় ব্যবহৃত একটি চাকু, তিনটি মোবাইল ফোন এবং একটি মানকী টুপি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।







