ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি:
মোঃ ইমরান হোসেন: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রেখে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ধামরাইয়ের প্রতিটি মণ্ডপে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ২৩৫ টি মণ্ডপে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় ও দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণে ধামরাইজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। আর এই বৃহৎ আয়োজনকে একদম নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ রাখতে দিন-রাত প্রহরীর ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ১৪৭৮ জন সদস্যরা।
পূজা শুরুর পর থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত ধামরাই পৌরসভা ও উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও ভিডিপির পুরুষ ও নারী সদস্যরা নিয়োজিত ছিলেন। তাদের নিরলস পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বশীল আচরণের কারণে উপজেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উপজেলার বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, মণ্ডপের প্রবেশমুখে দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াত নিশ্চিত করা, ভিড় সামাল দেওয়া এবং প্রতিমা পাহারায় সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে ছিলেন আনসার সদস্যরা। বিশেষ করে প্রতিমা দেখতে আসা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় ভিডিপির নারী সদস্যদের আন্তরিক তৎপরতা ছিল প্রশংসনীয়। নিজেদের উৎসব বা পরিবারের আনন্দ পেছনে ফেলে তারা নিষ্ঠার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক জনাব মোঃ ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ একটি আইনশৃঙ্খলা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় পুলিশের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছেন আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। আমি যেখানেই পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছি সেখানেই আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা এবং সদস্যদের সক্রিয় অবস্থায় থাকতে দেখেছি। তারা নিষ্ঠার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, “ধামরাইয়ে অত্যন্ত আনন্দমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা যেভাবে রাত-দিন জেগে মণ্ডপগুলো পাহারা দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাদের আন্তরিক ভূমিকার কারণেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নিশ্চিন্তে পূজা সম্পন্ন করতে পেরেছেন।”
এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা জনাব আসিফ ইকবাল বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ধামরাইয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে। ২১ অক্টোবর ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে ধামরাই উপজেলার দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন শ্রী শ্রী কালী মন্দিরে সীমানাপ্রাচীর টপকে অবৈধভাবে প্রবেশের ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেন দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা। আটক দুই কিশোর ধামরাইয়ের দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজন গত ১৮ অক্টোবর একই মণ্ডপে মদ নিয়ে প্রবেশের সময় আটক হয়েছিল। এ ছাড়া, এর আগেও মণ্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তাদের ধামরাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আমাদের আনসার ও ভিডিপির সদস্য-সদস্যাগণ অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করেছেন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা শেষ করতে পেরে আমরা সত্যি খুব আনন্দিত।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার ও ভিডিপির এই দায়িত্বশীল ও ত্যাগের মনোভাব ধামরাইয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও প্রশংসিত হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করা এই আনসার সদস্যরা ধামরাইয়ে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।







