জাল দলিল তৈরি করে অন্যের জমি আত্মসাতের চেষ্টা, ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রতারণা, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে আলোচনায় এসেছেন ইবনে আহম্মেদ ওরফে রাঙ্গা এবং তাঁর সহযোগীরা। তাঁদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পক্ষে
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার ডেমরা থানাধীন আমুলিয়া মৌজার সিএস ৩১৫, এসএ ১৪০, আরএস ১২ ও সিটি জরিপ ৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে।
অভিযোগকারীর দাবি, প্রকৃত মালিকের নাম, স্বাক্ষর ও সিলমোহর জাল করে ৭ এপ্রিল ২০২২ তারিখে ৪৫৫৮ নম্বরের একটি কথিত জাল আমমোক্তারনামা দলিল তৈরি করা হয়। ভুয়া ব্যক্তিদের মালিক ও দাতা সাজিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ভুল তথ্য দিয়ে দলিলটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ওই দলিলের ভিত্তিতে জমি দখলের চেষ্টা, প্রকৃত মালিককে উচ্ছেদের পাঁয়তারা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আদালতে সিআর মামলা নং ৬০১ দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইবনে আহম্মেদ ওরফে রাঙ্গা এবং তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, দখলবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন কৌশলে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এবং জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগকারী সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে, ইবনে আহম্মেদ ওরফে রাঙ্গা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বেআইনি মাদক পাচার উপর মহলের হাত ধরে গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের জীবনযাত্রা, সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান করা হলে তাঁদের আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
এ অবস্থায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার কাছে অভিযুক্তদের সম্পদের বিবরণ, আয়ের উৎস, ব্যাংক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
১। ইবনে আহম্মেদ ওরফে রাঙ্গা
পিতা: মৃত এরফান আলী সরকার
মাতা: নুরুন নাহার
ঠিকানা: রোড নং ২৪৬, গোড়ান, পোস্ট খিলগাঁও-২৪১৯, থানা খিলগাঁও, ঢাকা।
২। মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান
পিতা: মৃত সফিউদ্দিন হাওলাদার
মাতা: মোসাঃ মাজেদা বেগম
ঠিকানা: হাওলাদার বাড়ি, মধ্য নলুয়া, পোস্ট মধ্য নলুয়া-৮২৮৪, থানা বাকেরগঞ্জ, জেলা বরিশাল।
৩। ইবনে আহম্মেদ ওরফে রাঙ্গা-২
পিতা: মৃত এরফান আলী সরকার
মাতা: নুরুন নাহার
ঠিকানা: ৩২৪, গ্রাম তাশমারী, পোস্ট বিনোদপুর বাজার-৬২০৬, থানা মতিহার, জেলা রাজশাহী।
৪। মোঃ নোমান মিয়া
পিতা: মোঃ আমান উল্লাহ
মাতা: নূর জাহান বেগম
ঠিকানা: নন্দীপাড়া, জনাব আলী রোড, পোস্ট খিলগাঁও, ঢাকা।
৫। মোঃ মনির হোসেন
পিতা: মোঃ খলিলুর রহমান
মাতা: মনোয়ারা বেগম
ঠিকানা: বকসে আলী পাটোয়ারী বাড়ি, ৫২ নং চন্দীপুর, পোস্ট চন্দীপুর মনসা-৩৭২০, থানা রামগঞ্জ, জেলা লক্ষ্মীপুর।
৬। ফিরুজ আহম্মেদ চৌধুরী
পিতা: মৃত আব্দুল মান্নান চৌধুরী
ঠিকানা: ৫৯/২, মেয়াদিয়া নয়াপাড়া, থানা খিলগাঁও, ঢাকা।
৭। নবী হোসেন
পিতা: আব্দুল কাদের
ঠিকানা:বাসা ১৫, রোড নং ১৪, বনশ্রী, ঢাকা।
৮। আমজাদ হোসেন (বেন্ডার)
পিতা: অজ্ঞাত
ঠিকানা: দক্ষিণ বনশ্রী টেম্পু স্ট্যান্ড, থানা খিলগাঁও,
: অন্যের জমি আত্মসাৎ, জাল দলিল তৈরি, প্রতারণা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধের অভিযোগগুলো যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতিকার ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৪ ও ৫ এর আইনের আওতায় এনে এই ভূমিদস্যদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবি জানিয়েছেন আমলিয়া এলাকাবাসী







