২০২০ থেকে ২০২৬ সাল—দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাবেক প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে মো. ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের কোনো দৃশ্যমান বা চূড়ান্ত আইনি পরিণতি না আসায় জনমনে তীব্র অসন্তোষ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২০ সালে দুদক যে অনুসন্ধান শুরু করেছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফল কী দাঁড়াল—তা জানতে এখন সোচ্চার সাধারণ মানুষ। বি আই ডাব্লিউ টি এ সূত্রে জানা গেছে , ইন্জিনিয়ার সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব পালন কালে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাট করেন। বন্গ বন্ধু পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, জুলাই হত্যা মামলার আসামি এবং দূূদকে অভিযোগ থাকা সত্বেও বি আই ডাব্লিউ টি এর প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে সাইদুর রহমানকে পদায়নের জোর লবিং তদবির চলছে। ইতোমধ্যে তাকে প্রধান প্রকৌশলী পদে বসানের জন্য সংস্থা টির বোর্ড মিটিংয়েও প্রস্তাব ওঠে। সূত্রে আরও জানাযায়, তাকে বর্তমানে প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বিআইডব্লিউটিএর সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্ম চারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের পটভূমি ও দুদকের প্রাথমিক পদক্ষেপ:
২০২০ সালের শেষের দিকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় থেকে মো. ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়। স্মারক নং ১৯ ২৮২ তারিখ : ১৬/৯/২০২০ খ্রী:
অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ: ওই সময় দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি বিআইডব্লিউটিএ-এর বিভিন্ন ড্রেজিং প্রকল্পের নথিপত্র, টেন্ডার প্রসিডিংস এবং রেকর্ডপত্র তলব করে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেন।
সম্পদ বিবরণী তলব: অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০২০ সালের শেষভাগে ছাইদুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারি করেছিল দুদক। ২০৫৯৯ তাং ২৮/ ৯/ ২০২০ খ্রী:
ড্রেজিং প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের বিপরীতে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পদের পাহাড় গড়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘসূত্রিতা ও ধোঁয়াশা: বর্তমানে কী অবস্থায় আছে অনুসন্ধান?
দুদকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার অনুসন্ধান দীর্ঘ ৫ থেকে ৬ বছর ধরে ঝুলে থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
দায়মুক্তির নানামুখী গুঞ্জন: বিভিন্ন গণমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত বছরগুলোতে নানামুখী প্রভাব খাটিয়ে এবং তদবিরের মাধ্যমে দুদক থেকে ফাইল বন্ধ বা দায়মুক্তি নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। নদী খনন ও ড্রেজিং খাতের মতো সংবেদনশীল ও হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও মামলার চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন অর্থাত বিচার প্রক্রিয়া জনসমক্ষে না আসায় প্রক্রিয়াটির স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
স্থবিরতার অভিযোগ: প্রাথমিক পর্যায়ে তোড়জোড় শুরু হলেও পরবর্তীতে এই অনুসন্ধান কেন থমকে গেল কিংবা আইনি প্রক্রিয়ার কোন পর্যায়ে ফাইলটি বর্তমানে রয়েছে—তার সুনির্দিষ্ট কোনো আপডেট দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয়নি। ফলে জনমনে ধারণা জন্মেছে যে, প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অনুসন্ধানগুলো দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
জনগণের প্রত্যাশা ও প্রশ্ন:
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতের অর্থ নয় ছয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ যদি প্রমাণিত না হয়, তবে কেন তা পরিষ্কার করা হচ্ছে না? আর যদি অভিযোগের সত্যতা মেলে, তবে দীর্ঘ মেয়াদেও কেন কোনো চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ বা চার্জশিট দাখিল করা হলো না—আজ এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
নৌপথ ও ড্রেজিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে মো. ছাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে চলা দুদকের এই অনুসন্ধানের বর্তমান আইনি অবস্থা ও চূড়ান্ত ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আপডেট তথ্য পাওয়া মাত্রই তা সংবাদে যুক্ত করা হবে।







