, ,

বগুড়ায় পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই, ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪জন, ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার

নিউজটি শেয়ার করুন

বগুড়ায় বাস থামিয়ে পুলিশের পরিচয়ে ১০২ ভরি ১২ আনা স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় সাথে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই করা স্বর্ণ বিক্রির ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামের সাদিকুল ইসলাম ও আলমগীর হোসেন এবং জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম ও বালিঘাটা বাজার এলাকার আসাদুজ্জামান শাহিদ। পুলিশ জানায়,
গ্রেপ্তার আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১০টি মামলা রয়েছে। রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য-সংক্রান্ত তিনটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ২টায় বগুড়া জেলা গোয়েন্দা শাখার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান। সংবাদ সম্মেলনে আতোয়ার রহমান বলেন, বগুড়া শহরের গালাপট্টি এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম গত ৫ অক্টোবর ২৪ ক্যারেটের ১০টি স্বর্ণের বার তাঁর খালাতো ভাই বাপ্পি হোসেনের মাধ্যমে জয়পুরহাটে পাঠান। স্বর্ণগুলোর ওজন ছিল ১০২ ভরি ১২ আনা। বাপ্পি হোসেন বাসে করে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে বেলা ১২টার দিকে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা জয়পুরহাট সড়কের উথলি এলাকায় পৌঁছালে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি পুলিশের পরিচয়ে বাসটি থামান।
ওই ব্যক্তিরা বাপ্পি হোসেনকে জোর করে বাস থেকে নামিয়ে মারধর করেন। এরপর তাঁর কাছে থাকা স্বর্ণের বার ও একটি মুঠোফোন নিয়ে নেন। পরে তাঁকে মারপিট করে বগুড়ার শিবগঞ্জের বালা রোডের গুজিয়া হাট মণ্ডলপাড়ার একটি ফাঁকা জমিতে আহত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় খায়রুল ইসলাম শিবগঞ্জ থানায় ২৭ অক্টোবর একটি মামলা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, প্রথমে পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট জেলায় অভিযান চালানো হয়। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার তরিনয়হাট এলাকা থেকে সাদিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও বলেন, আলমগীরের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণ বিক্রির ২৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভীমপুর এলাকা থেকে রবিউল ইসলাম ও আসাদুজ্জামান শাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর দিনাজপুরের হাকিমপুরে সাদিকুলের বসতবাড়ি থেকে আরও ১৮ লাখ টাকা এবং পাঁচবিবির বড়মানিক গ্রামে শাহিদের গরুর খামারের কার্যালয় থেকে ৪১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৮৮ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।