, ,

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের পুনর্বাসন নথি জালিয়াতি: ৫ কর্মচারী শোকজ, ৪ বহিরাগতের বিরুদ্ধে মামলা

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীর রূপনগরে সরকারি পুনর্বাসন নথি জালিয়াতির ঘটনায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের (জাগৃক) অন্তত পাঁচজন কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজন বহিরাগতকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ:

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে যে, রূপনগর ১৯/২ এলাকার ৯/১ নম্বর পুনর্বাসন নথিটি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আমমোক্তার দলিল গ্রহণ করে সম্পাদিত হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নির্দিষ্ট আরআইসি (আরএস) নম্বরের ওই নথি ভুয়াভাবে পরিবর্তন ও দখল করার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় নথি সংরক্ষণকারী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের হিসাব সহকারী মো. জাহিদুল হুদা বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার আইনি কাঠামো:

মামলাটি দণ্ডবিধির ৪৬৫ (জাল দলিল তৈরি), ৪৭১ (জাল দলিল ব্যবহার) ও ৪৭২ (জাল দলিল গ্রহণ) ধারা এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিধানে রুজু করা হয়েছে।

এ মামলায় চারজন বহিরাগতকে আসামি করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে জাল দলিল গ্রহণ, নথি পরিবর্তন ও সরকারি রেজিস্ট্রি ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস ও রেজিস্ট্রার কর্তৃক সংরক্ষিত ফাইল জালিয়াতির মাধ্যমে পুনর্বাসন নথির আরআইসি নম্বর ও প্রকৃতি পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়।

শোকজকৃত কর্মচারীরা:

তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রূপনগর এলাকার ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পাঁচজনকে শোকজ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন, প্রত্যক্ষভাবে নথি পরিবর্তনে জড়িত সন্দেহে একজন রেজিস্ট্রেশন কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী এবং ভূমি পরিদর্শক। এদের বিরুদ্ধে নথি জালিয়াতিতে সহায়তা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় সুযোগ সৃষ্টির সন্দেহ রয়েছে।

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ:

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে শোকজের জবাব আহরণের পর তা ভিত্তিতে শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা: যেমন সাময়িক বরখাস্ত, বদলি বা চাকরি থেকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হবে।

এছাড়া, মন্ত্রণালয় ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বিভাগের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে।

বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় অভিযুক্ত কর্মচারী ও বহিরাগতদের নাম এই মুহূর্তে প্রকাশ করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রসঙ্গ: জাগৃক-এর নথি জালিয়াতির পূর্বাভাস

উল্লেখ্য, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি ও পুনর্বাসন ব্যবস্থাপনায় নথি জালিয়াতি ও দুর্নীতি নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও সংস্থাটির বিভিন্ন সার্কেলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যেমন:
রাজশাহী সার্কেলে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন চাকরির অভিযোগ ওঠে, যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরবর্তীতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মৃত ব্যক্তির নামে জাল দলিল সৃষ্টি করে জমি দখল বা পুনর্বাসন বন্টনে প্রতারণার ঘটনাও প্রতিবেদিত হয়েছে।

এসব ঘটনা কর্তৃপক্ষের ভূমি রেজিস্ট্রি ও পুনর্বাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী নজরদারির অভাব ও অস্থিরতার ইঙ্গিত বহন করে।