, ,

চৌদ্দগ্রামে পিতা-মাতার মৃত্যুর পর তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রবাসী ভাইকে ওয়ারিশী সম্পত্তি বঞ্চিত করার অভিযোগ

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের খামার পুষ্করণী গ্রামে পিতা-মাতার মৃত্যুর পর বাহরাইন প্রবাসী ভাইকে পৈত্রিক ওয়ারিশী সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে দেশে থাকা তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী প্রবাসী ইদ্রিস মিয়ার স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে প্রবাসীর সহোদর ভাই ইয়াছিন, সোবহান মিয়া ও ইউসুফ গংয়ের বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তিতু মিয়া ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর ইয়াছিন, সোবহান মিয়া ও ইউসুফ গং প্রবাসী ইদ্রিস মিয়াকে বঞ্চিত করে সকল সম্পত্তি তাদের নামে কাগজপত্র তৈরি করে নেন। বিষয়টি জানার পর ইদ্রিস মিয়া ভাইদের নিকট জানতে চাইলে উল্টো তাকে হুমকি প্রদান করা হয় এবং তার জন্য ওয়ারিশী সম্পত্তি খালের পাশে ঘর নির্মাণ করার জন্য রেখে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে ইদ্রিস মিয়া বসত বাড়ির জায়গার বিষয়ে বললে তারা বসত বাড়ির জায়গা দিবে না বলে হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে ইউসুফসহ বোনেরা বসত বাড়ি ও ভিটির জায়গা বিক্রি করবে বললে ইদ্রিস মিয়া ৮ শতক জায়গা ও ভিটি থেকে আরও ৮ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে বসত বাড়ি নির্মাণ করে ভোগ দখলে রয়েছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ইয়াছিন গং প্রবাসী ইদ্রিস মিয়ার পৈত্রিক ওয়ারিশী বসত বাড়ির জায়গা না দিয়ে নতুন ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে তিনি প্রবাসী ডেস্কের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেন যা পুলিশ তদন্ত শেষে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের নিকট প্রতিবেদন প্রদান করে। সম্প্রতি ইদ্রিস মিয়ার বসত বাড়ির সম্পত্তির লোভে পড়ে তাকে প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করে ইয়াছিন গং নিজেরা এককভাবে ভোগদখলের পাঁয়তারা করছে।
এ বিষয়ে ইয়াছিন গংদেরকে নালিশী সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে বণ্টনপূর্বক নিজ নিজ হিস্যা চিহ্নিত করে দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার অনুরোধ করার পরও তারা এককভাবে ভোগদখলের অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ অক্টোবর সকালে নালিশী সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ সুষ্ঠু সমাধান ব্যতীত ইয়াছিন গং বিল্ডিং ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিষয়টি ইদ্রিস মিয়াকে অবহিত করলে তিনি একই গ্রামের গিয়াস উদ্দিনকে জানান। গিয়াস উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাধা দিলে নুরজাহান বেগমকে গালমন্দ ও প্রাণে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইয়াছিন বলেন, এটা পূর্ব থেকে আমার দখলীয় ও কবলার জায়গা। এ নিয়ে কয়েকবার মামলা দিয়েছিল, তা খারিজ হয়েছে। সার্ভেয়ার দিয়ে মাপার পর বেড়া দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সামছুল আরেফিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।