এলজিইডির এক প্রকল্পের হিসাব রক্ষক আবুল বাশার শেখের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া নিয়োগের আবুল বাশার শেখের হাতে আছে আলাদিনের চেরাগ। ঘষা দিলেই প্রকল্পের টাকা স্রোতেরমত ঢোকে তার পকেটে। আর সেই অবৈধ টাকায় একেরপর এক কিনছেন ফ্ল্যাট,প্লট,জমি আর ব্যাংকে করছেন এফডিআর। অভিযোগে জানা যায় আবুল বাশার শেখ এলজিইডির পাবনা,বগুড়া, সিরাজগঞ্জ,জয়পুরহাট জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব রক্ষক আবুল বাশার শেখ। তিনি প্রকল্পের কেনাকাটা ও আনুষাঙ্গিক খাতের বরাদ্দের টাকা যাচ্ছেতাই খরচ দেখিয়ে বান্ডিল বান্ডিল টাকা ঢুকাচ্ছে হিসাব রক্ষক আবুল বাশার। ভুয়া বিল ভাউচার ও বাজার মূল্য থেকে অনেক বেশি মূল্য দেখিয়ে বাড়তি সকল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আবুল বাশার। প্রকল্পের সকল ধরনের কেনাকাটায় তার ১০% টাকা দিয়েই হবে। আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার ক্রয়, গাড়ি মেরামত সকল ক্ষেত্রে রয়েছে তার ভারি কমিশন। শুধু তাই নয় প্রয়োজনের দেড় গুন- দুইগুন বেশি পণ্য ক্রয় দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে অতিরিক্ত টাকা আবুল বাশার পকেটে বলেন। অভিযোগে জানা যায় এই ধরনের তঞ্চকতার আশ্রয় নিয়ে কয়েক কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগে জানা যায় প্রকল্পের আউটসোর্সিং নিয়োগে কম্পক্ষে ৩০ জনের নিকট থেকে তিন থেকে পাঁচ লাখ হারে দেড় কোটি টাকা নিয়েছে। কাকতালীয় ভাবে ৩/৪ জনের চাকরি হলেও অন্যদের টাকা ফেরত দেয়নি।
আবুল বাশার শেখের নিয়োগ নিয়ে আছে বিতর্ক। ১৬ মে ১৯৯৯ সালের পর ২০১০ সাল পর্যন্ত এলজিইডিতে জিওবি খাতে কোনো নিয়োগ হয়নি কিন্তু আবুল বাশার শেখের নিয়োগ ২০০২ সালে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় ২০০১ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনটি পদে ৫৭৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয় এর মধ্যে ১৩০ জন হিসাব রক্ষক। সূত্র আরও জানায় ওই সময় প্রয়াত কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এর স্বাক্ষর কাট পেস্ট করে এই নিয়োগ দেওয়া হয়। আবুল বাশার শেখের নিয়োগ ও কাট পেস্ট ।আবুল বাশার শেখের নিকট তার নিয়োগ পত্র চাইলে আসল নিয়োগপত্র দেখাতে পারবেনা। এমনকি এলজিইডিতেও তার নিয়োগপত্রের ওরজিনাল কপি নাই।
প্রতিবেদকের নিকট রক্ষিত আবুল বাশার শেখের জাতীয় পরিচয়পত্র যার নং ১৪৮২৬৮৬৪৮০’র মাধ্যমে তার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়। তার অবৈধ আয়ের টাকায় কেনা ফ্ল্যাট,প্লট, জমি এফডিআর এর হিসাবে দেখা যায়। আবুল বাশার শেখ ৪০৬/৩, পশ্চিম শেওড়া পাড়া,মিরপুর,এখানে ১৫০০ বর্গফুটের একটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট যেখানে বসবাস করেন ওই ফ্ল্যাটে বাজার মূল্য এক কোটি টাকা। এই ফ্ল্যাটের মধ্যের ফিটিংস ও আসবাব পত্রের মূলও কোটি টাকার বেশি। ১৩ নং ওয়ার্ড সেন পাড়া পর্বতা নির্মিত ১০ তলা ভবনে ৭/এ,১২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। ১৪ নং ওয়ার্ড সেন পাড়া, মিরপুর ৮ তলা ভবনে ৭৫০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট,আবুল বাশার শেখের পৈতৃক বাড়ি খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকায় কিনেছেন ৯২ শতক জমি কিনেছেন। ব্যাংকেও রয়েছে কয়েক কোটি টাকার এফডিআর।
সর্বসাকুল্যে ২৮০০০ হাজার টাকা বেতন পেয়ে কিভাবে এতো সম্পদ করলেন তা বোধগম্য নয়। সূত্র জানায় ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এই বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। সূত্র আরো জানায় চাকরি শুরু থেকেই অনিয়ম ও দুর্নীতিতে মারদাঙ্গা আবুল বাশার শেখ সবসময়ই দুর্নীতিতে পারদর্শী। আলাদিনের চেরাগের দৈত্য যেন আবুল বাশার শেখের অধিনস্ত ঘষা দিলেই টাকা ঢোকে পকেটে।







