, ,

সিলেট গিলে খেয়ে জলবায়ু প্রকল্পে দূর্নীতিবাজ পিডি মো: ইনামুল কবীর

নিউজটি শেয়ার করুন

সিলেট এলজিইডি গিলে খেয়েছে সাবেক স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ইনামুল কবীর। জাতীয় দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রায় সংবাদ প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারিভাবে জারি করা এক নথিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্যয়–ব্যবস্থাপনা এবং মাননিয়ন্ত্রণসহ একাধিক গুরুতর অসঙ্গতির বিষয় উল্লেখ করে সবেক প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির ফলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ সম্পর্কে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে।

নথিটি জারি করেন এলজিইডি সিলেট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অব:) কাজী আব্দুল সামাদ।

অভিযোগে দেখা যায়,

# প্রকল্প বাস্তবায়নে অসঙ্গতি ও বিল–ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়ম করা হয়েছে।

২০২০ সালের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের মান, বিল–ভাউচার প্রস্তুত, কনসালটেন্সি ফি নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কাজ অসম্পূর্ণ থাকা সত্ত্বেও বিল ছাড়ের অভিযোগও তোলা হয়েছে।

# আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মানা হয়নি

USA, Canada, Australia, Japan এবং ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী কাজ করার কথা থাকলেও, বাস্তবে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে নথিতে দাবি করা হয়। বিশেষ করে TUV ও DNV–এর স্বীকৃত মানদণ্ড পূরণ না হওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।

# ‘Gob Maintenance’ খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়

রক্ষণাবেক্ষণ খাতে বরাদ্দ করা মোট অর্থের ব্যয় বিবরণী মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না—এমন মন্তব্যও রয়েছে নথিতে। প্রচুর অর্থ ব্যয়ের পরও প্রকৃত কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

# দুই অর্থবছরে ব্যয়–বরাদ্দে অসামঞ্জস্য

২০২০–২১ ও ২০২১–২২ অর্থবছরের ব্যয়ে বড় ধরনের অমিল দেখা গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোথাও বাজেটের চেয়ে বেশি ব্যয় আবার কোথাও বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কাজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি কম—এমন মন্তব্যও উল্লেখযোগ্য।

নথিতে কেন তদন্তের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়েছে?

সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতার প্রশ্ন, প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি, ব্যয়ের অসঙ্গতি এবং মাননিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার মতো অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অপরিহার্য বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র প্রতিবেদককে জানায়—

“নথিতে যে বিষয়গুলো উল্লেখ আছে, সেগুলো প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সংগৃহীত। তদন্ত ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ সম্ভব নয়।”
যে কারণে দূর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে।

সিলেট এলজিইডিকে কেন্দ্র করে যে অনিয়মের অভিযোগগুলো সামনে আসছে, তা নিঃসন্দেহে বড় ধরনের প্রশাসনিক তদন্তের দাবি রাখে । সরকারি দপ্তরের সার্বিক মূল্যায়ন ও তদন্ত শেষে প্রকৌশলী মো. ইনামুল কবীরকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থা পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তাছাড়া জলবায়ু প্রকল্পের দায়িত্ব নিয়েই ব্যাক্তিগত উদ্যোগে অফিস স্থানান্তর করে ভিআইপি মর্যাদার অফিস স্হাপন, কঠোর নিরাপত্তা,দরজায় অত্যাধুনিক তিন স্হরের সিকিউরিটি সিস্টেম ব্যবহার করে এক স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলে।
জলবায়ু প্রকল্পে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় সেবাগ্রহীতাগন পিডির সাথে দেখা করতে গেলে অনেক কাঠখড় পোহাতে হয়।

এলজিইডি সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদককে জানান ইনামুল কবীরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইনামুল কবীর দাম্ভিকতা দেখিয়ে বলেন, আমি কোন বিষয়ে সাংবাদিকদের বক্তব্য দিতে চাই না এবং দিব ও না।