নির্ধারিত সময়ে ইজারা না দিয়ে গোপনে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সরকারি রাজস্ব বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা ইজারাদারদের মধ্যে উত্তেজনা, ২৭ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের ঘোষণা |
সুনামগঞ্জের ছাতক ঘাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালক সাইফুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ে ওপেন টেন্ডার না করে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে ঘাট ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ঘাটকে কেন্দ্র করে,ইজারাদারদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।ভুক্তভোগী ইজারাদারদের অভিযোগ, ছাতক ঘাটের ওপেন টেন্ডার চলতি বছরের ১ থেকে ৭ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা যথাসময়ে করা হয়নি। এর পরিবর্তে ঘাটটি এক মাস করে বিভিন্ন পক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নৌপথের বিভিন্ন টেন্ডার ও ঘাট ইজারা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে একটি সুবিধাভোগী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের অভিযোগ, পরিচালক সাইফুল ওই চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। হাইকোর্টের মামলা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য ছাতক ঘাটের ইজারা নিয়ে হাইকোর্টে চলমান সিভিল মামলা নম্বর ৩০৬৩-এর প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মামলাটির কারণে ঘাট ইজারা কার্যক্রমে জটিলতা রয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালক সাইফুলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, হাইকোর্টের মামলাটি ‘ব্রেকেট’ করার জন্য তিনি বিআইডব্লিউটিএর আইন শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন।তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আইন শাখার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন—এমন তথ্য তারা পাননি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, পরিচালক যদি আইন শাখাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই নির্দেশের লিখিত নথি কোথায় এবং আইন শাখা বাস্তবে কী পদক্ষেপ নিয়েছে? ঘাট নিয়ে বাড়ছে উত্তেজনা স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাতক ঘাটের ইজারা নিয়ে একাধিক পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ ও স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়ার পরিবর্তে কাউকে এক মাসের জন্য ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ভুক্তভোগী ইজারাদারদের আশঙ্কা, দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে ঘাট এলাকায় সংঘর্ষের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। এ কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মানববন্ধনের ঘোষণা অভিযোগের প্রতিকার এবং ছাতক ঘাটে স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য টেন্ডার নিশ্চিত করার দাবিতে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মানববন্ধনের কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইজারাদাররা। ভুক্তভোগী ইজারাদার মোহাম্মদ জুয়েল ও মোহাম্মদ জালাল অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, ইজারা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং সরকারি রাজস্ব সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। তদন্তেই বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র ছাতক ঘাটের বিষয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার নথি, ইজারা বিজ্ঞপ্তি, সরকারি রাজস্ব আদায়ের হিসাব, ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশ, ব্যাংক/ট্রেজারি চালান এবং হাইকোর্টের মামলার সর্বশেষ আদেশ পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিচালক সাইফুলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইন শাখার লিখিত অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগগুলো সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন। জাতীয় রাজস্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সরকারি ঘাটের ইজারা প্রক্রিয়া নিয়ে এমন অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি এখন কেবল ইজারাদারদের বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং সরকারি অর্থ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং নৌপরিবহন খাতের জবাবদিহির প্রশ্নেও পরিণত হয়েছে।







