গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও বিভিন্ন ইউনিয়নে চলতি ২০২৫–২৬ মৌসুমে পেঁয়াজ চাষে ব্যাপক সাফল্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার হলদিয়া, জুমারবাড়ি, কামালেরপাড়া, কচুয়া সহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই বিস্তীর্ণ জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল এলাকায় এবার সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ চাষাবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ মৌসুমে মোট ৫৫১ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উন্নত জাতের পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। যেমন
তাহেরপুরী জাত ৪৬৭ হেক্টর, ফরিদপুরী জাত ৪৫ হেক্টর, বারি জাত ১০ হেক্টর, বারি পেঁয়াজ-৪ ২০ হেক্টর, সুখ সাগর-৪ ৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। এছাড়া বারি পেঁয়াজ-৬, নাসিক রেড (এন-৫৩) ও লালতীর হাইব্রিড-৫ জাতের পেঁয়াজও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে আবাদ করা হয়েছে।
চরাঞ্চলের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এবার আবহাওয়া খুবই অনুকূলে ছিল। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী উন্নত জাত ব্যবহার করেছি। এখন ক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে ভালো ফলন হবে।
জুমারবাড়ি ইউনিয়নের কৃষক সোহেল রানা জানান, এবার রোগবালাই তুলনামূলক কম। উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাজার ভালো থাকলে আমরা লাভবান হবো।
কামালেরপাড়া ইউনিয়নের কৃষক নুর ইসলাম বলেন, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শে আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করছি, এতে ফলন ভালো হচ্ছে।
কচুয়া ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এবার পেঁয়াজের গাছ খুব ভালো হয়েছে। বাম্পার ফলনের আশা করছি।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আসাদুজ্জামান বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের সঙ্গে যুক্ত করতে আমরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিচ্ছি। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পাশে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এবার সাঘাটায় পেঁয়াজ উৎপাদনে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে কৃষকের পরিশ্রম, কৃষি বিভাগের আন্তরিক সহযোগিতা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সাঘাটা উপজেলার চরাঞ্চল ও ইউনিয়নগুলোতে পেঁয়াজ চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।







