মাগুরায় আলোচিত যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে গুলি করে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামী রনি শিকদার ও শামীমা ইয়াসমিন লুবনাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তদন্তকারী কমকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় আসামীদের আদালতে হাজির করা হলে রাষ্ট্র পক্ষের শুনানী শেষে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।
এর আগে গত রবিবার এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ কামরুজ্জামান ঘটনার ক্লু ও ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন আদালতে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আসামীদের আদালতে উপন্থিতিতে ১৫ দিনের জন্য রিমান্ডের পক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ কামরুজ্জামান আবেদন জানান। তকে সহযোগিতা করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক সুব্রত বিশ্বাস। এছাড়া রাষ্ট্র পক্ষে আইনী সহায়তা করেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মাগুরা সভাপতি এ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর, আইনজীবী এ্যাডভোকেট কুমুদ রঞ্জন বিশ্বাস, এ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শেষে বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা আক্তার প্রত্যেক আসামীকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। তবে এ মামলায় আসামীদের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে অংশ নেয় নি।
এদিকে, আদালতের রিমান্ড শুনানী চলাকালে আদালত চত্বরের বাইরে যুবদলের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত শাকের হত্যার সাথে জড়িত প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার ও বিচার দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে শাকের হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পর গোসল করানোর সময় তার মাথার পেছনে ছিদ্র দেখতে পান। পরে তাকে আবার হাসপাতালে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের সময় তার মাথা থেকে একটি গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তার বুধবার(২১ অক্টোবর) রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
নিহত শাকের মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালী বেপারীপাড়া এলাকার মরহুম কুতুব উদ্দিনের ছেলে। সে মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টারে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ ওই দিন রাতে রনি শিকদার ও শামীমা ইয়াসমিন লুবনাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে।






