২০২৬ সালের ১৫ জুনের মধ্যে একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীকে ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং সংশ্লিষ্টদের সেই আশ্বাসের পর সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের স্বস্তি ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক আবহের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি ও সমীকরণ স্থায়ী হলো মাত্র এক সপ্তাহ। ২২ জুন নবনির্বাচিত তারেক রহমান সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় আবারও ঢাকাসহ ৬টি কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার’ (বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা) দিয়ে সেনাবাহিনী মোাতিকভাবে মোতায়েন করা হলো।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ দেশের সবচেয়ে প্রাচীন ও মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বানকারী প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নাশকতার আশঙ্কা এবং পুলিশের নতুন করে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতাকে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে দেখানো হলেও, এটি আসলে দেশের গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ভঙ্গুরতা ও রাজনৈতিক কাঠামোর এক ধরনের দুর্বলতাকেই নতুন করে উন্মোচিত করে। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের বেসামরিক শাসনব্যবস্থার কি আসলে সাধ্য নেই সেনাবাহিনীকে তাদের মূল পেশাদার দায়িত্বে আটকে রাখার? নাকি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতিটি পালাবদলে সেনাবাহিনী নিজেই এক অনিবার্য নিয়ামক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যার প্রাতিষ্ঠানিক সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র পরিচালনা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়?
এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মূল বক্তব্য লুকিয়ে আছে সেনাপ্রধানের বিভিন্ন সময়ে ব্যবহৃত একটি নির্দিষ্ট শব্দবন্ধের মধ্যে- ‘প্রফেশনাল ক্যাপাবিলিটি’ বা পেশাদার সক্ষমতা। মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশি দায়িত্ব পালন করালে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড, সামরিক চরিত্র এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের পেশাদারিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- সেনাপ্রধানের এই সতর্কবার্তার মোড়কে বক্তব্যটি যতোটা না সামরিক, তারচেয়ে বেশি কৌশলগত।
বাংলাদেশের ইতিহাস বলে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে যে ‘সিভিও-মিলিটারি ক্যু’ বা সামরিক-বেসামরিক যৌথ পটপরিবর্তনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নয়। ১৯৭৫, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৮২, ২০০৬ এবং সর্বশেষ ২০২৪- ক্ষমতার এই পালাবদলগুলো একই সুতোয় বাঁধা। অতীতে সামরিক হস্তক্ষেপের পর দীর্ঘ সময় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সামরিক শাসন চলেছে। তবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার গঠিত হওয়ার পরও কেন সেনা প্রত্যাহারের প্রশ্নে সরকার ও সেনাপ্রধানের সুর ভিন্ন? কেন মাঠের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো এক ধরনের অস্থিতিশীলতার বৃত্তেই বন্দি?
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই রাজনৈতিকীকরণের শিকড় খুঁজতে আমাদের ফিরে যেতে হবে এর জন্মলগ্নে। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি আদল, কঠোর ঔপনিবেশিক ট্রেনিং ও ওখানকার সামরিক মানসিকতায় গড়ে ওঠা অফিসারদের একাংশের সঙ্গে স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে আসা মুক্তিকামী অফিসারদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল শুরুতেই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন সরকার যখন মুক্তিযোদ্ধাদের একাংশকে সেনাবাহিনীতে কো-অপ্ট করে এবং অবশিষ্ট অংশ নিয়ে ‘মুজিব বাহিনী’ ও পরবর্তীতে ‘রক্ষীবাহিনী’ গঠন করে, তখন থেকেই পেশাদার সামরিক এলিটদের ভেতর এক ধরনের অস্তিত্বের সংকট বা ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ তৈরি হয়।
সেই সুযোগে তৎকালীন কিছু রাজনৈতিক শক্তির উগ্র প্রপাগান্ডা এবং কোল্ড ওয়ারের বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সেনাদের ভেতরে এক ধরনের ধারণা ছড়ানোর চেষ্টা হয় যে, তৎকালীন সরকার সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়ে রক্ষীবাহিনীকে মূল সামরিক শক্তিতে রূপান্তর করতে পারে। এই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে এবং তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে নানাবিধ রাজনৈতিক অসন্তোষকে পুঁজি করে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনীর একাংশ। ক্ষমতা দখল করেই তারা সিভিলিয়ান খন্দকার মোশতাককে সামনে রেখে একটি পুতুল সরকার বসায় এবং এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো দেশপ্রেমিক জেনারেল খালেদ মোশাররফকে পাল্টা ক্যু-এর মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। একই সাথে শেখ মুজিব অনুসারী রাজনীতিক জাতীয় চার নেতাকেও হত্যা করা হয়।
১৯৭৮ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমান সামরিক আইন প্রশাসকের খোলস ছেড়ে পাকাপাকিভাবে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ নিয়ে হাজির হন। তিনি সরাসরি নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে গণভোটের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন এবং প্রথমে ‘জাগদল’ ও পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। তাঁর আমলেই সেনাবাহিনীতে এক ধরনের বিশেষ ভাবাদর্শের অফিসারদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতা সংহত হতে থাকে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। এর ফলে সেনাবাহিনীতে যে কিছু সংখ্যক প্রগতিশীল বা ভিন্ন মতাদর্শের সদস্য ছিলেন, তাদের উপর নেমে আসে তীব্র দমনপীড়ন। সেই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এতটাই তীব্র ছিল যে প্রায় প্রতিদিনই সেনাঅভ্যন্তরে ক্যু-পাল্টা ক্যুদেতার মত পরিস্থিতি চলছিল। এরই মধ্যে জাপান এয়ার লাইন্সের একটি বিমান হাইজ্যাকড হয়ে ঢাকায় অবতরণ করলে সেটাকে কেন্দ্র করে বিমান বাহিনীতে এক নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত ঘটে, যার ফলে কয়েক শ’ এয়ারফোর্স অফিসারের ফাঁসি ও অকাল মৃত্যু ঘটে। সেই টালমাটাল পরিস্থিতি সামাল দিতে জিয়া তার শাসনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাতের কার্ফিউ কঠোরভাবে বহাল রাখতে বাধ্য হয়েছিলেন।
জিয়ার শাসনের অবসান ঘটে ১৯৮১ সালে আরেকটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে, যার নেপথ্য সুবিধাভোগী ছিলেন পাকিস্তান ফেরত জেনারেল এইচ এম এরশাদ। ১৯৮২ সালে তিনি নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করেন।
১৯৯০ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ৯ বছর এরশাদ দেশ শাসন করেন। এরশাদের আমলেই বাংলাদেশের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পরিবর্তন করে রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তন করা হয়, যা মূলত সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছিল। তিনিও পূর্বসূরীর মডেল অনুসরণ করে ‘জাতীয় পার্টি’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
১৯৮৬ সাল নাগাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনটি ধারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে- আওয়ামী লীগ (মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাপন্থী), বিএনপি (জাতীয়তাবাদী ভাবাদর্শ) এবং এরশাদের জাতীয় পার্টি।
এসময় আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি এটা বুঝতে পারে যে রাজনীতিতে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ কমে আসলে তার সুফল সব সময়ই অরাজনৈতিক শক্তির পকেটে যাবে। সেই উপলব্ধি থেকে ১৯৮৬ সালের পর শুরু হওয়া যুগপৎ আন্দোলন ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের মাধ্যমে শেষ হয়। এরপর সংবিধান সংশোধন করে একটি সংসদীয় পদ্ধতির শাসন ক্ষমতা রাজনীতিবিদদের হাতে ফিরে আসে।
১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-আওয়ামী লীগ পালাক্রমে দেশ শাসন করলেও গুরুতর সমস্যাটি ছিল অন্য জায়গায়। ক্ষমতার বাইরে থাকার সময় দলগুলো সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে রাখার কথা বললেও, ক্ষমতায় গিয়েই প্রতিপক্ষকে দমনে এবং নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর নামে সেই সেনাবাহিনীকেই ব্যবহার করতে থাকে। ফলে সেনাবাহিনী কখনো পলিটিক্যাল এরিনার বাইরে যেতে পারেনি, বা তাদের যেতে দেওয়া হয়নি।
এই দুই দশকের ক্ষমতার লড়াইয়ের সুযোগে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী প্রধান রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে আবির্ভূত হয়। অবশ্য জিয়াউর রহমানের শাসনামলেই জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য রাজনীতিতে ফিরে আসে। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম অংশ নির্বাচনে তেমন প্রভাব ফেলতে ব্যার্থ হয়ে জামায়াত কৌশলের আশ্রয় নেয়। এরপর তারা কখনোও আওয়ামী লীগের সাথে যুগপৎ আন্দোলন বা কখনোও বিএনপির সরকারে ভাগ বসায়।
তবে ১৯৯১ সালের পর যখন প্রধান দলগুলো ভোটের সমীকরণে ব্যস্ত, ঠিক তখন জামায়াত অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় তাদের আদর্শে বিশ্বাসীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থায় পুশ করতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। যে সেনাবাহিনী একটা দীর্ঘ সময় ধরে প্রো-পাকিস্তান বা ইসলামপন্থী সেন্টিমেন্ট নিয়ে বিকশিত হচ্ছিল, সেখানে এই ধারাটি আরও গতি পায়। ২০০৫-৬ সালের মধ্যে তারা একই কৌশল আধা-সামরিক বাহিনী বিডিআর-এ (বর্তমান বিজিবি) প্রয়োগ করে বলে ধারণা করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরপরই বিডিআর বাহিনীতে একটি নৃশংস বিদ্রোহ ঘটানো হয়। আপাতদৃষ্টিতে সুযোগ-সুবিধার অভাবকে অজুহাত করা হলেও, এর মূল লক্ষ্য ছিল নবগঠিত সরকারকে সংকটে ফেলা এবং সেনাবাহিনীকে বিডিআর-এর মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে একটি বড় ধরনের সংঘাত নিশ্চিত করা, যার পেছনে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট উসকানি ছিল বলে মনে করা হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুটি অত্যন্ত চতুর কৌশলগত পদক্ষেপের কারণে এই ফাঁদ এড়াতে সক্ষম হন। প্রথমত, তিনি আলোচনার পথ বেছে নেন এবং দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনীকে সরাসরি আক্রমণে না পাঠিয়ে বেসামরিক ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা ব্যবহার করে বিদ্রোহ দমন করেন। এই সফল কৌশলের পর ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত টানা পনের বছর শেখ হাসিনা সিভিল-মিলিটারি ব্যালান্স বজায় রাখতে পেরেছিলেন। তিনি সংবিধানে অনুচ্ছেদ ৭(ক) যুক্ত করে সামরিক অভ্যুত্থানের শাস্তি কঠোর করেন এবং সেনাবাহিনীকে জাতিসংঘের মিশন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখেন। তবে এই দীর্ঘ সময়ে সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এক ধরনের স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক আনুগত্যের সংস্কৃতি চালু হয়, যা সেনাঅভ্যন্তরে এক নীরব অসন্তোষের জন্ম দেয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তৎকালীন সরকার যখন নিরাপত্তা বাহিনীকে মাঠে নামিয়ে আন্দোলন দমনের শেষ চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই ৩ আগস্ট সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদরের দরবারহলে এক বিশেষ দরবার ডাকেন। সেখানে জুনিয়র ও মিড-লেভেলের অফিসাররা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তারা জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াতে চান না। এর নেপথ্যে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিল আন্তর্জাতিক চাপ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক দফতর এবং পশ্চিমা শক্তিগুলো সরাসরি সামরিক নেতৃত্বকে ইঙ্গিত দেয় যে, সেনাবাহিনী যদি রাজপথে সরকার বিরোধীদের দমনের সাথে জড়িয়ে পড়ে, তবে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ঝুঁকিতে পড়বে।
যেহেতু শান্তিমিশন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্থিক কাঠামোগত মূল ভিত্তি, তাই নিজের প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষায় সামরিক নেতৃত্ব তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা ছাড়ার পরামর্শ দেয় এবং এরপর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্র পরিচালনার পথ সুগম করে।
ড. ইউনূসের আমল পেরিয়ে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রের মৌলিক গতিমুখের স্থায়ী পরিবর্তন ঘটেনি। সেনাবাহিনী ব্যারাকে তো ফেরেইনি, বরং তারা এখন বেসামরিক প্রশাসনের সমান্তরালে এক ধরনের ছায়া শাসন বা ‘পাকিস্তানি মডেল’ বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যেখানে সামনে থাকবে নির্বাচিত বেসামরিক সরকার, কিন্তু পেছনের মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি থাকবে সামরিক এলিটদের হাতে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মতোই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীও এখন ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, রিয়েল এস্টেটসহ ৫০টিরও বেশি লাভজনক বিজনেস সেক্টর নিয়ন্ত্রণ করছে, যা তাদের রাজনৈতিক অভিলাষকে আরও উসকে দিতে পারে।
সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সেনা অভ্যন্তরে যে বিশেষ আদর্শিক পুশ-ইন চলেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর উগ্রপন্থী আচরণ এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুসহ বিভিন্ন ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
বিশ্বের ইতিহাসে মিশর বা তুরস্কের সেনাবাহিনী যেখানে মৌলবাদী ও উগ্রপন্থী শক্তির বিরোধিতা করে দেশকে আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাখার লড়াই করেছে, বাংলাদেশে ঘটছে তার বিপরীত চিত্র। সেনা অভ্যন্তরের এই নীরব আদর্শিক রূপান্তর এবং নির্বাচিত সরকারকে পেছনে ফেলে এক ধরনের অরাজনৈতিক বা ধর্মীয় উগ্রপন্থী শক্তির ছায়া নিয়ন্ত্রণ যদি অব্যাহত থাকে, তবে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদে একটি অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে







