নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর দেশত্যাগকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন ও নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম জহিরের সঙ্গে নজরুল ইসলাম বাবুর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন।
প্রকাশিত সংবাদে দেখা যায়, ২০২৩ সালের একটি টেলিভিশন টকশোতে তৎকালীন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু ও বিএনপির নেতা মাহমুদুর রহমান সুমন একসঙ্গে আড়াইহাজারের রাজনীতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন। ওই প্রতিবেদনে বাবুকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, সুমনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি এবং তিনি বিএনপির একজন সাহসী প্রার্থী। �
নারায়ণগঞ্জ টাইমস | Narayanganj Times
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে জহিরুল ইসলাম জহিরের বাসভবনে আয়োজিত বিএনপির দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানে মাহমুদুর রহমান সুমনের উপস্থিতির তথ্য প্রকাশিত হয়। �
Narayanganj Post ::
নারায়ণগঞ্জ পোস্ট
এ ছাড়া ২০২৩ সালের আরেক প্রতিবেদনে মাহমুদুর রহমান সুমনের নেতৃত্বে আড়াইহাজারে বিএনপির কর্মসূচিতে জহিরুল ইসলাম জহিরের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। �
Manab Zamin
এসব প্রকাশিত তথ্যের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে একটি অভিযোগ ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নজরুল ইসলাম বাবু দেশত্যাগের সময় তাকে কেউ সহযোগিতা করেছিলেন কি না, করে থাকলে কারা করেছিলেন? এ বিষয়ে জহিরুল ইসলাম জহির ও মাহমুদুর রহমান সুমন কী জানেন, সেটিও আলোচনায় এসেছে।
তবে নজরুল ইসলাম বাবুকে দেশত্যাগে মাহমুদুর রহমান সুমন বা জহিরুল ইসলাম জহির সহযোগিতা করেছেন—এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ বা নির্ভরযোগ্য নথি এই প্রতিবেদনের হাতে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগ ও রাজনৈতিক আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে।
আরও একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে—যদি ওই সময়কার কোনো ঘটনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থেকে থাকে, তাহলে এতদিন তারা প্রকাশ্যে সে বিষয়ে বক্তব্য দেননি কেন? তাদের নীরবতার পেছনে কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—এ প্রশ্নের উত্তরও এখন অনেকের আগ্রহের বিষয়।
এদিকে নজরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে সুমনের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে অতীতেও সংবাদমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি প্রকাশিত হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে তাদের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার অভিযোগ তোলা হয়েছিল; অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্যও বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে।







