বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গাইবান্ধায় আবারও বঞ্চনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত অনেক তরুণ ও কর্মরত সাংবাদিক সুযোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে গাইবান্ধা সার্কিট হাউস চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিক্ষোভকারী সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আয়োজিত এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে। তাদের দাবি, বছরের পর বছর একই ব্যক্তিরা বারবার প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন, অথচ মাঠপর্যায়ে কাজ করা নতুন ও তরুণ সাংবাদিকদের ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
তাদের আরও অভিযোগ, এবারের প্রশিক্ষণ তালিকায় পূর্বে একাধিকবার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কয়েকজন প্রবীণ সাংবাদিক, একই পরিবারের একাধিক সদস্য এবং সাংবাদিকতার সঙ্গে নিয়মিতভাবে সম্পৃক্ত নন-এমন কিছু ব্যক্তিরও নাম রয়েছে। এতে প্রকৃত কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাংবাদিকরা প্রশ্ন তোলেন, যারা একাধিকবার রাষ্ট্রীয় প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তারা কেন বারবার একই সুযোগ পাবেন? তাদের মতে, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত না হলে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে জেলা তথ্য অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলা হয়। উপস্থিত সাংবাদিকদের দাবি, প্রতিবাদের মুখে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং পরে সার্কিট হাউস ত্যাগ করেন। তবে এ বিষয়ে জেলা তথ্য অফিসের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ড. মো. মনিরুজ্জামান বিক্ষুব্ধ তরুণ সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে প্রেস কাউন্সিলের প্রশিক্ষণে প্রকৃত কর্মরত ও তরুণ সাংবাদিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই ব্যক্তি বারবার প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন না বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে তরুণ সাংবাদিকরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে তারা জানান, ভবিষ্যতেও প্রশশিক্ষণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, ন্যায্যতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচির পথে যেতে বাধ্য হবেন।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশিক্ষণ বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে প্রকৃত মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।







