, ,

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

নিউজটি শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিয়োগসংক্রান্ত কার্যক্রমে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

এ-সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিভিন্নভাবে প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিজের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিকে মামলার ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের (পিএস) মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে নাভিরা ওভারসিজের মালিক হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জের গোপালী সাঈদের সঙ্গে কথিত যোগসাজশের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে কথিত একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠার অভিযোগ তুলে নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে দুই বছর কারাভোগের পরও গোপালী সাঈদ পুনরায় ওই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। তাঁর দেশে-বিদেশে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট, ফ্ল্যাট ও বাড়ির মালিকানা রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ নথিটিতে উপস্থাপিত হয়নি।

অভিযোগে সাবেক প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম এবং তৎকালীন সচিব রুহুল আমিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যোগাযোগ ও সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সরকারি প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার স্বার্থে এ ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সি এবং অভিবাসনপ্রত্যাশী কর্মীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা জরুরি।

তবে আপলোড করা নথিতে অভিযোগগুলোর সমর্থনে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন, আদালতের নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া অভিযুক্ত কর্মকর্তা, উল্লিখিত অন্য ব্যক্তিবর্গ কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যও নথিতে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে প্রমাণিত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া এবং নথিপত্র যাচাই করে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণই হবে যথাযথ প্রক্রিয়া।