ভূমিকা:
নীরবতার পেছনে থাকে নির্মম বাস্তবতা আর সেই নির্মমতা হলো পুরুষ নির্যাতন। আমাদের সমাজে ‘নির্যাতন’ শব্দটি শুনলে বা চোখের সামনে আসলেই ভেসে ওঠে এক অসহায় নারীর ছবি। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, এনজিও এবং সামাজিক আলোচনায় নারী নির্যাতন অতি গুরুত্বের সাথে স্থান করে নেয়। নারী নির্যাতন আছে এবং তার আলোচনা আবশ্যক। কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতা আছে যা বছরের পর বছর অনালোচিত থেকে গেছে আর তা হলো পুরুষ ‘নির্যাতন’। নারী নির্যাতন নিয়ে যত লেখা বা গবেষণা হয়েছে তার ১% ও পুরুষ নির্যাতন নিয়ে হয়নি।
“পুরুষ মানুষ সব গোপন করতে হবে, সহ্য করতে হবে” এমন কথায় হাজারো পুরুষের কান্না গলার কারাগারে থেকে যায়। লজ্জা, সামাজিক স্টিগমা এবং আইনি সুরক্ষার অভাবের কারণে পুরুষরা তাদের উপর ঘটে যাওয়া নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে আনতে পারে না। জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল ইউএনএফপিএ এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বিভিন্ন জরিপে পরিলক্ষিত হয়, পারিবারিক সহিংসতার শিকার শুধু নারীরাই নন, পুরুষরাও উল্লেখযোগ্য হারে শিকার হচ্ছেন।
এই নিবন্ধে পুরুষ নির্যাতনের বিভিন্ন দিক—প্রকার, কারণ, প্রভাব-ফলাফল ও উত্তরণের উপায় আলোচনা করা হবে। বিশেষভাবে স্ত্রী, সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হবে।
পুরুষ নির্যাতনের রূপভেদ:
পুরুষ নির্যাতন বহুমাত্রিক। একে ৬টি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমেই সংক্ষেপে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।
১. শারীরিক নির্যাতন: অনেকে মনে করেন শারীরিক শক্তিতে পুরুষরা বলবান তাই তারা মার খান না। এটা সর্বস্তরে, সর্বক্ষেত্রে সত্য নয়। বাস্তবতা স্থান, কাল, পাত্রভেদে ভিন্ন। অনেক মহিলাই হাতের কাছে যা পান তা দিয়ে আঘাত করেন যেমন বিভিন্ন তৈজসপত্র, স্যান্ডেল, মোবাইল ছুড়ে মারেন। এছাড়া আঁচড়, কামড়, চুল ধরে টানা, ঘুমের মধ্যে আঘাত করা। বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কমিশনের ২০১৯ সালের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ঢাকা শহরের ১২% পুরুষ পূর্ববর্তী এক বছরে স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন।
২. মানসিক ও আবেগিক নির্যাতন: এ ধরনের নির্যাতন অহরহ চলে এবং তা পুরুষের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।
– ক্রমাগত অপমান: ‘তুমি অযোগ্য’, ‘তোমার দ্বারা কিছু হবে না’, ‘তুমি কথা বলবে না’, ‘চুপ করে থাকো’ ইত্যাদি বাক্যবাণ।
– সন্দেহ: ‘মোবাইল চেক করা’, ‘বন্ধুদের সাথে মিশতে না দেওয়া’, ইত্যাদি আচরণ।
– আত্মসম্মানে আঘাত করা: ‘আত্মীয়-স্বজনের সামনে ছোট করা’, ‘বাইরের মানুষের সামনে কথা কেড়ে নিয়ে কথা বলা’, ‘অন্য মানুষের সাথে এমন আচরণ বা কথা বলা’ যা স্বামীকে ভীষণভাবে আহত করে।
মানসিক নির্যাতনের ফলে পুরুষরা ক্রমান্বয়ে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে, নিজেকে গুটিয়ে রাখে।
৩. আর্থিক নির্যাতন:
– ‘পুরো বেতন স্ত্রীর কাছে দিতে বাধ্য করা’, ‘ওয়ালেট চেক করে টাকা সরিয়ে ফেলা’, ‘কাজে বাধা দেওয়া’, ‘বৃদ্ধ হলেও কাজ করতে বাধ্য করা’, ‘ইচ্ছামতো ব্যয় করা’, ‘ঋণ করা এবং তার দায় স্বামীর উপর চাপানো’, ‘কাউকে এমনকি বৃদ্ধ বাবা-মাকে টাকা দিতে অনীহা প্রকাশ করা বা বাধা দেওয়া’।
৪. সামাজিক নির্যাতন:
– ‘কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে স্বামীকে ছোট করা’, ‘সোশ্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড নিয়ে নেওয়া’, ‘বন্ধু-বান্ধবহীন করে দেওয়া’, ‘প্রতিবেশী বা আত্মীয়স্বজনের কাছে স্বামীর বদনাম করা’।
৫. আইনি ও প্রশাসনিক নির্যাতন:
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইনি ও প্রশাসনিক নির্যাতন খুবই গুরুত্ববহ। ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, যৌতুক নিরোধ আইন, পারিবারিক সহিংসতা আইনের অপব্যবহার করে মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া’, ‘সন্তানের কাস্টডি না দেওয়া বা দেখা করতে না দেওয়া’, থানায় গিয়ে ‘আমাকে মেরেছে’ বলে মিথ্যা অভিযোগ করা।
৬. যৌন নির্যাতন:
– ‘যৌন সম্পর্ক ইচ্ছামতো করা’, ‘অসুস্থ হলেও শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা’। এ বিষয়ে কথা বলা পুরুষের জন্য নির্মম কঠিন কারণ সমাজ একে ‘দুর্বলতা’ হিসেবে দেখে।
পুরুষ নির্যাতনের কারণসমূহ:
১. পারিবারিক কারণ:
– যৌথ পরিবারে দ্বন্দ্ব: শাশুড়ি-বউয়ের ঝগড়ায় স্বামীকে ‘মায়ের পক্ষ না বউয়ের পক্ষ’ বেছে নিতে বাধ্য করা। উভয় পক্ষ থেকেই মানসিক চাপে পড়েন পুরুষ।
– ক্ষমতার দ্বন্দ্ব: স্ত্রীর আয় যদি বেশি হয় এবং তা যদি মাতৃপক্ষের প্রাপ্ত সম্পত্তির উৎস হতে আসে তাহলে স্ত্রী সংসারের একক কর্তৃত্ব নেন। কোনো বিষয়ে শেয়ার করা তো দূরের কথা মৌখিকভাবে জানাতেও অনীহা প্রকাশ করেন। কখনও মতের অমিল হলে নিজের মত বাস্তবায়ন করেন। অমতে কিছু করলে স্বামীকে নিগৃহীত হতে হয়। স্বামীকে বাড়ির সহকারীদের উপর নির্ভরশীল হওয়া ছাড়া কোনো গত্যন্তর থাকে না।
– বিয়ের আগের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ: বিয়ের আগে ‘তুমিই আমার ভালোবাসা আর কিছু চাই না’। কিন্তু বিয়ের পর বড় চাকরি, অঢেল টাকা, গাড়ি, বাড়ি, নিদেনপক্ষে ফ্ল্যাট চাই এমন অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশা পূরণ না হলে অশান্তি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় গরীব ঘরের মেয়েরা বিয়ের পর তার জীবনের না পাওয়াটা স্বামীর কাছে প্রত্যাশা করে আর স্বামী অপারগ হলে বাজে দুর্ব্যবহার শুরু করে। ঘুষ, দুর্নীতি করতে উদ্বুদ্ধ করে। স্বামী না করলে তার কষ্টের সীমা থাকে না। ধনী লোকের মেয়ে বউ হলে তার বিলাসী জীবনের সাথে তাল মেলাতে না পারলে স্বামীর জীবন অতিষ্ঠ। ব্যতিক্রম থাকলেও এমনটি বহু পরিবারে লক্ষণীয়।
২. আর্থিক কারণ:
বেকারত্ব বা কম আয় পুরুষ নির্যাতনের অন্যতম কারণ। স্ত্রী বা শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে “তুমি সংসার চালাতে পারো না” এমন বাক্যবাণ প্রতিদিনের নির্যাতনে পরিণত হয়। আবার স্ত্রী যদি স্বাবলম্বী হয় বা অনেক অর্থের/সম্পত্তির মালিক হয় তাহলে বেশিরভাগ সময় স্বামীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। স্বামী যদি বেশি আত্মমর্যাদাসম্পন্ন হয় তবে মারাত্মক অবহেলার শিকার হয়।
৩. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণসমূহ:
– পুরুষত্বের সংজ্ঞা: অনাদিকাল হতে সমাজ শিখিয়েছে পুরুষ ‘কাঁদবে’ না, ‘অভিযোগ’ করবে না। সামাজিক এই রীতি পুরুষ মুখ বুজে সহ্য করে। নিভৃতে চোখের জল ফেলে।
– আইনের একপাক্ষিকতা: বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এ নারীর আইনি অধিকার বিধৃত কিন্তু পুরুষদের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। এর ফলে নারী আইনের অপব্যবহারের সুযোগ পায়। ভোগে পুরুষ।
– মিডিয়ার ভূমিকা: টিভি নাটক, সিনেমায় পুরুষকে প্রায়ই ‘ভিলেন’ বা অত্যাচারী হিসেবে দেখানো হয়। এর ফলে ভুক্তভোগী পুরুষরা সমাজের সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হয়।
৪. ব্যক্তিগত ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ:
স্ত্রীর সন্দেহপ্রবণতা, গোপন প্রেম বা পরকীয়া, মাদকাসক্তি, বেপরোয়া চলাফেরা, রাগ নিয়ন্ত্রণের অভাব, ছোটবেলার পারিবারিক ট্রমা ইত্যাদি কারণেও স্বামী নির্যাতনের শিকার হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভূমিকা বিশ্লেষণ:
স্ত্রীর ভূমিকা: নির্যাতনকারী থেকে নির্যাতনের সহায়ক, স্ত্রী হচ্ছে এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় চরিত্র।
নেতিবাচক ভূমিকা:
– উস্কানিদাতা: মা-বোনের কথায় প্রভাবিত হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধাচরণ করা।
– মানসিক টর্চার: ‘মা-বাবাকে মেনে না নেওয়া’, ‘তাদের আশ্রমে দেওয়ার তাগিদ’, বেকার ভাই থাকলে ‘তোমার ভাই বেকার বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবে কেন?’ এভাবে মানসিক চাপে রাখা।
– আইনি অস্ত্র ব্যবহার: সামান্য কথা কাটাকাটি হলে ৯-এ কল করা বা মামলার ভয় দেখানো।
– সন্তানকে ব্যবহার: সন্তানরা বেশিরভাগই মা-ভক্ত হয়। মায়ের কথাকে বিশ্বাস করে। স্ত্রী সন্তানকে কানপড়া দিয়ে পিতাবিরোধী করে তোলে। বাবা খারাপ, নির্যাতনকারী, পরনারীতে আসক্ত এসব কথায় সন্তানদের খারাপ ব্যবহারে প্ররোচিত করে।
ইতিবাচক ভূমিকা:
– স্বামী আর্থিক বা শারীরিক সমস্যায় পড়লে মানসিক সাহস দিয়ে পাশে দাঁড়ানো।
– মধ্যস্থতাকারী: শ্বশুরবাড়ির লোকদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করা।
– সমস্যা সমাধান: ঝগড়াঝাঁটি হয়ে কথা বন্ধ হলে সরি বলে কথা বলা, সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা।
সন্তানের ভূমিকা: একদিকে সন্তানরা যেমন ভিকটিম তেমনি তারা ঘটনার প্রভাবক। এক্ষেত্রে তাদের নেতিবাচক প্রভাব ও ইতিবাচক ভূমিকা রয়েছে।
নেতিবাচক প্রভাব:
– বাবা-মায়ের ঝগড়া দেখে সন্তানের মধ্যে অস্থিরতা, ডিপ্রেশন হয়।
– টিনএজ সন্তানরা অনেক সময় মায়ের পক্ষ নিয়ে বাবাকে ‘দুর্বল’ ভাবে এবং অসম্মান করে।
– আদালত বা সালিস কেন্দ্রে সন্তানদের বাবার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা হয়।
ইতিবাচক ভূমিকা:
– বড় সন্তানরা বাবা-মাকে বুঝিয়ে ঝগড়া থামাতে পারে।
– বাবার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে তার মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে পারে, ডিপ্রেশন হতে রক্ষা করতে পারে।
– ‘বাবা তুমি চিন্তা কোরো না’ এই একটি বাক্য অনেক পুরুষকে আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচাতে পারে।
নিজের ও শ্বশুরবাড়ির পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা:
– শ্বশুরবাড়ির লোকজন: প্রায়শই মেয়ের মা-বাবা জামাইকে জব্দ করার জন্য মেয়েকে উস্কানি দেয়। ‘আমাদের মেয়েকে কষ্ট দিলে ছেড়ে দিবি’ — এই মানসিকতা সংসার ভাঙার কারণ হয়।
– নিজের বাবা-মা ও ভাইবোন: তাদের ভূমিকা দুই রকম হতে পারে:
নেতিবাচক: ‘পুরুষ মানুষকে নির্যাতিত হলেও সন্তানদের জন্য সংসার করতে হয়’ বলে ছেলেকে চাপ দেওয়া।
ইতিবাচক: ছেলের বা ভাইয়ের কথা শুনে তাকে আইনি ও মানসিক সাপোর্ট দেওয়া। প্রয়োজনে শ্বশুরবাড়িতে সালিশে যাওয়া।
প্রভাব ও ফলাফল:
– ব্যক্তিগত প্রভাব:
মানসিক স্বাস্থ্য: WHO-এর তথ্যানুযায়ী দীর্ঘমেয়াদী মানসিক নির্যাতনের শিকার ৪০% পুরুষ ডিপ্রেশনে ভোগেন। সামগ্রিকভাবে আত্মহত্যার হারও বেড়ে যায়।
শারীরিক স্বাস্থ্য: উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, আলসার, মাইগ্রেন, অনিদ্রা রোগে আক্রান্ত হয়, মৃত্যুও ঘটে।
কর্মজীবন: অফিসের কাজকর্মে মনোযোগ নষ্ট হয়। অধিকর্তার নেতিবাচক আচরণে কর্মজীবন কষ্টকর হয়ে ওঠে এর ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হয়।
– পারিবারিক ফলাফল:
এসবের ফলে সংসারে অশান্তি বাড়ে। তালাকের ঘটনাও ঘটে থাকে।
সন্তানদের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কোনো কোনো সন্তান বিপথে যায় বা লেখাপড়া নষ্ট হয়।
বৃদ্ধ বাবা-মা সংসারে অপাংক্তেয় হয়ে ওঠেন। তারা প্রয়োজনীয় সেবা পান না।
– সামাজিক ফলাফল:
নির্যাতিত পুরুষরা সমাজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। তারা কোনো সামাজিক কাজে অংশ নেয় না। একাকীত্ব তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ধরে।
উত্তরণের উপায় ও প্রতিকার:
সমস্যা আছে সমাধান নেই এমনটি নয়। সমন্বিত উদ্যোগে তা থেকে উত্তরণ ঘটানো সম্ভব।
– ব্যক্তিগত পর্যায়:
কথা বলা: বিশ্বস্ত বন্ধু, ভাই-বোন, বা কাউন্সেলরের সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলুন।
প্রমাণ সংরক্ষণ: মারধর বা হুমকির অডিও, ছবি বা মেসেজ সংরক্ষণ করা।
আর্থিক স্বাধীনতা: নিজের আয়ের একটি অংশ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা।
– পারিবারিক পর্যায়ে:
খোলামেলা আলোচনা: স্বামী-স্ত্রী মাঝে মাঝে বসে সমস্যা নিয়ে কথা বলা।
বড়দের মধ্যস্থতা: পরিবারের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিদের দিয়ে সালিশ করা।
কাউন্সেলিং: সরকারি ও বেসরকারি সংস্থায় ফ্যামিলি কাউন্সেলিং-এর ব্যবস্থা করা।
– সামাজিক ও আইনি পর্যায়ে:
আইন সংস্কার: পুরুষদের জন্যও সুনির্দিষ্ট সুরক্ষা আইন প্রণয়ন। ভারতের “Men’s Rights Association”-এর মতো সংগঠন বাংলাদেশেও গড়ে তোলা।
সচেতনতা: স্কুল-কলেজে “Gender Neutral Violence” নিয়ে পড়ানো।
সহায়তা কেন্দ্র: “জাতীয় হেল্পলাইন ৯৯” জরুরি সহায়তা গ্রহণ করা, “জাতীয় আইনি সহায়তা” ১৬৪৩০ বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ নেওয়া, “মানসিক স্বাস্থ্য” কান পেতে রই ০১৭৩০৩০১৫২১ থেকে সহায়তা নেওয়া।
– স্ত্রী ও পরিবারের ভূমিকা:
স্ত্রীকে বুঝতে হবে স্বামী প্রতিপক্ষ নয়, আমরণ সহযোদ্ধা, তাকে একাকী করে না দেওয়া, তার উপর কর্তৃত্বমূলক আচরণ না করা, সকল বিষয় শেয়ার করা ইত্যাদি।
সন্তানদের উস্কানি না দেওয়া এবং তাদের শেখানো সমস্যা সমাধানের ভাষা আলোচনা, চিৎকার নয়, নয় অসম্মানমূলক কথাবার্তা বলা।
শ্বশুর ও নিজ পরিবারের সদস্যদের আগুনে ঘি না ঢেলে পানি ঢালার মানসিকতা থাকা।
উপসংহার:
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক একটি পবিত্র সম্পর্ক যেখানে রাগ-অভিমান থাকতে পারে সাথে থাকতে হবে শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস। পুরুষ বা নারী নির্যাতন কোনোটাই কাম্য নয়। পুরুষ নির্যাতন নিয়ে কথা বলা মানে নারী নির্যাতনকে অস্বীকার করা নয়। নির্যাতন অন্যায়, সেটা যেই করুক না কেন।
একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে হলে ‘নারী বনাম পুরুষ’ না ভেবে ‘মানুষ বনাম অন্যায়’ হিসেবে বিষয়টিকে বিবেচনা করা। পরিবার ভালোবাসার স্থান, রণক্ষেত্র নয়। স্ত্রী, স্বামী, সন্তান এবং পরিবারের প্রতিটি সদস্য যদি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, একে অপরের প্রতি বিশ্বস্ত হয়, কর্তৃত্ববাদী না হয়, সমস্যাকে নিজেরও ভাবে তাহলে নির্যাতন পরিবারে থাকবে না, প্রসঙ্গটি সাংসারিক জীবনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে।
সকলকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে, বলতে হবে, শুনতে হবে কারণ নীরবতা নির্যাতনকে আরও শক্তিশালী করে।
‘রেফারেন্সের তালিকা’
১. বই ও গবেষণা পত্র:
George, M. J. & Yarwood, D. J. (2017). “Male victims of female-perpetrated partner violence: A qualitative analysis.” Journal of Family Violence, 32(7).
Bates, E. A. (2016). “Current controversies within intimate partner violence: Overlooking bidirectional violence.” Journal of Family Violence.
২. জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রিপোর্ট:
Bangladesh Bureau of Statistics. (2015). Report on Violence Against Women Survey.
United Nations Population Fund – UNFPA Bangladesh. State of World Population Report.
৩. আইন দলিল:
বাংলাদেশ সংবিধান, অনুচ্ছেদ ২৭ ও ৩১: আইনের দৃষ্টিতে সমতা।
পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০।
৪. সহায়তা সংস্থা:
Bangladesh National Human Rights Commission: http://www.nhrc.org.bd
Ain o Salish Kendra – ASK: http://www.askbd.org
৫. সংবাদ ও নিবন্ধ:
দৈনিক প্রথম আলো, “সংসারে পুরুষরাও নির্যাতনের শিকার”, ১২ মার্চ ২০২০।
The Daily Star, “Male victims of domestic abuse: The silent sufferers”, 8 August 2020।
মোতাহার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব







