, ,

নীলফামারীতে জমি নিয়ে বিরোধে শতাধিক কলাগাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে

নিউজটি শেয়ার করুন

নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রায় ১০০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সাগর চন্দ্র শর্মা নামে এক যুবক নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে মানিক চন্দ্র সরকার (৩৫) ও শ্যামল চন্দ্র সরকার (৩৩) নামে দুই ভাইকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা দুবাছুরি (সরকারপাড়া) এলাকার দ্বিজেন্দ্র নাথ সরকারের ছেলে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে সাগর চন্দ্র শর্মা উল্লেখ করেন, লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের দুবাছুরি মৌজায় এসএ খতিয়ান নম্বর ১৯৯ ও এসএ দাগ নম্বর ৬৬৫০-এর ১৮ শতক জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর জের ধরে এর আগেও অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, ২৮ সেপ্টেম্বর ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে অভিযুক্তরা হাতে কাইছা নিয়ে সাগরের ভোগদখলীয় জমিতে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা তার রোপণ করা প্রায় ১০০টি কলাগাছ কেটে ফেলা হয়। এতে আনুমানিক এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সাগরের অভিযোগ, ঘটনাটি তার মা শেফালী রাণী শর্মা দেখতে পেয়ে অভিযুক্তদের কারণ জানতে চাইলে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তিনি বাড়িতে গিয়ে ছেলেকে বিষয়টি জানান। সাগর তার সঙ্গে হিমাংসু সরকারকে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা হাতে থাকা ধারালো কাস্তে উঁচিয়ে তাদের গুরুতর জখম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগকারীর দাবি। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে আপস-মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি বলে জানান সাগর।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মানিক চন্দ্র সরকার। তিনি বলেন, “আমি সরকারি চাকরি করি। আমাকে ফাঁসানোর জন্যই এসব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়।”
তিনি আরও দাবি করেন, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে ও তার ভাইকে জড়ানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জমির দখল ও মালিকানাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এই অভিযোগের বিষয়ে নীলফামারী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।