ভোরের কুয়াশা ভেজা পথে কে ডাকে নাম ধরে,
বটের ছায়ায় বসে যেন আজও তুমি ঘুমাও ধ্যানে।
নদীর জলে চাঁদের আলো যেমন ভেসে থাকে নীরবে,
তেমনি তোমার করুণাধারা ঝরে ভক্তের প্রাণে।
তিরোধান কি বিদায় বাবা? না কি আলোর অন্য দ্বার,
দেহের মাটির খোলস ছেড়ে মিলেছো অনন্ত আকাশে?
শিউলি ঝরা প্রভাতবেলা, ধূপের ধোঁয়া ওঠে ধীরে,
তোমার নামে জেগে ওঠে সহস্র প্রার্থনার বাতাস।
তুমি ছিলে পথহারা পথিকের প্রদীপ হাতে মাঝি,
ঝড়ের রাতে আশ্রয় দেওয়া নির্ভয় কোনো বাতিঘর।
ধানের শিষে শিশির হয়ে, গোধূলির রাঙা মেঘে,
আজও তুমি ভেসে বেড়াও প্রতিটি ভক্ত গৃহে।
অশ্রু যখন বুক ভাসায়, দুঃখ যখন ঘিরে ধরে,
তোমার বাণী শঙ্খধ্বনির মতো বাজে অন্তরে।
মৃত্যু শুধু পর্দা টানে, আলো কি কখনো মরে?
সূর্য যেমন ডুবে গিয়েও ফিরে আসে নতুন ভোরে।
তাই আজ তিরোধান দিবসে শোক নয়, জাগে আরতি,
তোমার নামে দীপ জ্বালে লক্ষ ভক্তের ভালোবাসার হৃদি।
লোকনাথ, তুমি আছো এখনো গঙ্গার জলে,পূজার ফুলে,
মানুষের সব পবিত্রতায়, অনন্ত প্রেমের সুরে সুরে।
তুমি আছো জপমালার প্রতিটি দানায়, প্রতিটি নিশ্বাসে।







