, ,

ড. ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ, ২৯ অক্টোবর ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের

নিউজটি শেয়ার করুন

সাগর কর্মকার, নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার প্রতিবাদ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার বিরোধিতা, ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর কথিত অপতৎপরতা বন্ধ এবং ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত অসম ও অধীনতামূলক চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনি ইহসান। সমাবেশ থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে খোমেনি ইহসান বলেন, নিউইয়র্কে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে কঠোর বিচারের আওতায় আনতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যত দিন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা জীবিত থাকবেন, তত দিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করতে দেয়া হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খোমেনি ইহসান আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, তাদের কে প্রতিহত করা হবে। তাঁর ভাষায়,
ড. ইউনূসকে হেনস্তার অভিযোগের পর আওয়ামী লীগের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের কোনো সুযোগ নেই।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে খোমেনি ইহসান বলেন, হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধের দাবিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু সরকার এখনো তাদের দাবি অনুযায়ী প্রত্যাশিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই।
তিনি ঘোষণা করেন, আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করা হবে। এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদেরও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খোমেনি ইহসান বলেন, দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার ও দণ্ড কার্যকরের দাবিও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, দুই দেশের মধ্যে সম্পাদিত ১০১টি চুক্তির মধ্যে যেসব চুক্তি অসম ও অধীনতামূলক বলে বিবেচিত, সেগুলো পর্যালোচনা করে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বাংলাদেশের নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোয় ভারতের স্বার্থে কাজ করছেন বলে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মন্দির নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গরু জবাই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েও বক্তব্য দেন খোমেনি ইহসান। তিনি এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি স্থাপন, জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ এবং শহীদ ওসমান হাদীকে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে খোমেনি ইহসান বলেন, আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা না করা, জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার, ভারতীয় হাইকমিশনারের কথিত অপতৎপরতা বন্ধ, ভারতের সঙ্গে অসম চুক্তি বাতিল এবং অভিন্ন নদ-নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।