, ,

এলজিইডি স্থবির প্রমোশনজটে

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি: প্রমোশনজটে স্থবির হয়ে পড়েছে এলজিইডি। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, নির্বাহী প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী সব পদে প্রমোশনজট। বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ১৩ পদে আছেন মাত্র চার জন। এই জট না খুললে বছর শেষে এই পদে থাকবেন মাত্র একজন। প্রায় দুইশ উপজেলা প্রকৌশলীর কাজ চলছে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে। বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ৩৬টি পদ খালি,ওই কাজ পালন করছেন অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীগণ। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে দিয়ে ২/৩ টি দফতরের কাজ করতে হচ্ছে এতে কাজের গতি শ্লোথ হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায় প্রমোশনের বিষয় নিজেদের মধ্যে রেষারেষি ও কাদাছোড়াছুড়ির কারনে ক্রমোশ পিছিয়ে যাচ্ছে এই কার্যক্রম। সহকারী প্রকৌশলী হতে নির্বাহী প্রকৌশলী প্রমোশনে তিনটি গ্রুপ ঠেলাঠেলি করছে। ২৫৭ জনের গ্রুপের বিরোধিতা করছে পিএসসির মাধ্যমে চাকরি পাওয়া জামাল গ্রুপ এবং অপর পক্ষ ২০০৫ গ্রুপ। এলজিইডির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায় এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর নির্বাহী প্রকৌশলীর বহুপদ খালি হয়ে যাবে। পোস্টিং দেওয়ার‌মত জনবল থাকবে না।
এলজিইডিতে বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাগণের মধ্য থেকে বঞ্চিত ২৫৭ জন কর্মকর্তা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের আদেশ মোতাবেক যথাযথ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ “স্থানীয় সরকার বিভাগ” কর্তৃক ২০১০ ও ২০১১ এবং ২০১৩ সালে একই তারিখে পদায়ন ও নিয়মিতকরণে প্রজ্ঞাপন জারি করে। তৎ-পরবর্তীতে নিয়মিত ২৫৭ জনের চাকরির মেয়াদ ৮ বছর পূর্তি ও অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ষষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু এলজিইডিতে ২০১৩ সালে পিএসসি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত জামাল গং বর্ণিত ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি অবৈধ দাবী করে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল আদালতে এটি ৪১/২০২১ (নতুন) ৩১/২০১৯ (পুরাতন) মামলা দায়ের করলে মাননীয় আদালত সকল প্রার্থী ও প্রতিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে দীর্ঘ ৪ (চার) বছর শুনানি শেষে গত ১৬/১০/২০২২ইং তারিখে এই মর্মে রায় ঘোষণা করেন যে, ২৫৭ জনের একই তারিখে পদায়ন ও নিয়মিতকরণ সঠিক হয়েছে এবং ২৫৭ জনের পদোন্নতি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পাদন হয়েছে এবং ২০১৫ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকা সঠিকভাবে হয়েছে। পরবর্তীতে জামাল গং মামলায় হেরে ২০১৫ সালের জ্যেষ্ঠতা তালিকা মেনে নিয়ে ৬ষ্ঠ গ্রেডে ২০২২ সালে পদোন্নতি নেন এবং পদোন্নতি গ্রহণ করার পর ২০২২ সালে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনাল আদালতে এএটি ৩৪২/২০২২ দায়ের করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে।

পদোন্নতির উপর উচ্চ আদালতে স্থিতিঅবস্থা থাকায় দাপ্তরিক ও মাঠ পর্যায়ে কাজ জনস্বার্থে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শূন্যপদের বিপরীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত ‘চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান নীতিমালা-২০২৩’ বিধি-৩ মোতাবেক কোনো বাধা না থাকায় এলজিইডির হতে চলতি দায়িত্ব প্রদানে প্রস্তাব স্থানীয় সরকার বিভাগ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত নীতিমালার বিধি ১০ মোতাবেক চলতি দায়িত্ব পদোন্নতি হিসেবে দাবি করা যাবে না বলে স্পষ্টাকরণ করা হয়েছে।

কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের অবমামনা করে অসত্য একপেশে প্রতিবেদন উচ্চ আদালতে দাখিল করেছে এবং উচ্চ আদালত প্রতিবেদনটির উপর কোনো আদেশ দেন নাই। মামলাটি রিট পিটিশনটি 14118/2024 (PIL) শুনানির জন্য মহামান্য হাইকোর্টে অবকাশকালীন ছুটির ১ (এক) সপ্তাহ পর শুনানির জন্য রয়েছে।
সূত্র জানায় ২৫৭ জন কর্মকর্তাদের ইতোমধ্যে কয়েকজন মারা গেছেন,কয়েকজন অবসরে গেছেন ,কয়েকজন চাকরি ছেড়ে অন্য পেশায় চলেগেছেন।বর্তমানে ওই গ্রুপে চাকরিতে আছে ১৮৫ জন। এলজিইডির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদকে বলেন, সকল ভেদাভেদ ভুলে সংস্থার স্বার্থে কাজ করা উচিত। তিনি বলেন একজন চাকরিজীবীর বড় আশা থাকে প্রমোশন পাওয়া। কিন্তু এলজিইডিতে এটা ব্যস্ত হচ্ছে। অনেকে ২৭/২৮ বছর সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে চাকরি করছে কিন্তু এই জটিলতার কারনে তারা প্রমোশন হচ্ছেনা।এটা সুরাহা হওয়া উচিৎ।