স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রকল্প পরিচালক রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এখনো সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি।
এলজিইডি, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নীরবতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ যা উঠে এসেছে?
আইআরআইডিপি-০৩ প্রকল্পের পরিচালক রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-
* তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার শিউলীর নামে ৩১ লাখ ৬১ হাজার ৯৩৮ টাকার একটি গাড়ি কেনা
* লালমাটিয়ার বুলবুলিকা ভবনে ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার ৬ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট
* গুলশান, বনানী, উত্তরা ও বরিশালে একাধিক সম্পত্তির মালিকানা
* স্ত্রীর নামে কোটি টাকার বেশি অনিয়মিত সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগ
এ অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এখনো কোনো দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেনি।
আইন যা বলে
দণ্ডবিধি ১৮৬০–এর ধারা ৪০৬ ও ৪০৯, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ধারা ৫ ও ২৭ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ধারা ৪ অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। উচ্চ আদালতের রায়েও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হলে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তদন্তের নির্দেশনা রয়েছে।
কেন নীরব কর্তৃপক্ষ?
সংবাদ প্রকাশের পরও এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব কিংবা মন্ত্রণালয়ের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেননি। তদন্ত কমিটি গঠন বা প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
জনস্বার্থে তদন্ত জরুরি
সরকারি প্রকল্পের অর্থ জনগণের করের টাকা। এই অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ উপেক্ষা করা জনস্বার্থের পরিপন্থী।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে এলজিইডির ১৭টি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। ফলে নতুন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত না হওয়া আরও প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
আইনবিদদের মতে, গুরুতর আর্থিক অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রথমে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা উচিত।
দুদক আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী এ ধরনের অভিযোগ তদন্তের এখতিয়ার দুদকের রয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা
দেশের জনগণ চায় সরকারি অর্থের অপব্যবহার সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত হোক। রুহুল আমিন খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান না হলে এতে দুর্নীতির প্রবণতা বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান
অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত অবিলম্বে শুরু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে দুদকের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনস্বার্থ রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদটি চলমান; নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।







