রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ফাতেমা বেগম মলির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি তার বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রাজউকজুড়ে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উদাসীনতা, প্রভাবান্বিত সিদ্ধান্ত ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে।
বহুল সম্পদের অভিযোগ:
অভিযোগপত্র অনুযায়ী- রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের সেক্টর-১২ ও ২৩-এ ৫ কাঠা করে এবং সেক্টর-২০-এ ৩ কাঠা প্লট রয়েছে তার নামে। রাজধানীর ঝিগাতলার হাফিজুল্লাহ গ্রীনে একাধিক ফ্ল্যাট এবং পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারের ১২ তলায় আরেকটি ফ্ল্যাটের মালিকানার অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ফাতেমা মলি ও তার স্বামী আবুল ফজল রাজু বিভিন্ন নামে-বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন, যার কোনো উল্লেখ নেই তাদের আয়কর রিটার্ন বা সম্পদ বিবরণীতে।
হত্যা মামলা ও ফৌজদারি অভিযোগ:
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং ৯৯/২০২৫-এ ফাতেমা মলি, তার স্বামীসহ মোট ১৭৫ জনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে শাহ আলী থানায় মামলা নং ০৯/২০২৫ রুজু হয়, যেখানে দণ্ডবিধির ৩০২সহ একাধিক গুরুতর ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি- ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে অর্থায়ন, দাঙ্গা উসকানি এবং সহিংসতার সন্দেহে তাদের নাম মামলা তালিকায় আসে।
দুদকের তদন্ত স্থবিরতার অভিযোগ:
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করলেও তদন্ত দীর্ঘদিন স্থবির ছিল-এমন অভিযোগ রয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, নথি সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হলেও তদন্ত এখনো চলমান।
আইন অনুযায়ী করণীয়:
সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী- কোনো সরকারি কর্মচারী গুরুতর ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হলে সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা বাধ্যতামূলক। (অফিস মেমো নং (ইডি)(রেগ–৮)/এস-১২৩/৭৮-১১৫(৫০০), তারিখ: ২১/১১/৭৮-বি.এস.আর বিধি ৭৩)। এছাড়া Bangladesh vs. Md. X, 65 DLR (AD) 2023 রায়ে গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
কিন্তু এসব আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও ফাতেমা মলির ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় সমালোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
প্রভাব খাটানোর অভিযোগ:
রাজউকের একাধিক কর্মচারী অভিযোগ করেন- ফাতেমা মলি ও তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ শ্রমিক সংগঠনের প্রভাবশালী অংশের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে রাজউকে প্রভাব বিস্তার করেছেন। টেন্ডার প্রভাবিত করা ও অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে- যদিও এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতে বা স্বাধীন তদন্তে এখনো প্রমাণিত নয়।
ফাতেমা মলির অবস্থান:
তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মত:
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন- গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা সরকারি চাকরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তারা দুদককে দ্রুত তদন্ত শেষ করা এবং ফৌজদারি মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।







