, ,

রংপুর রিজিয়ন বিজিবির সাফল্য: ৬৭ কোটি টাকার চোরাচালানী মালামাল ও ৫৫৬ আসামী আটক

নিউজটি শেয়ার করুন

সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও চোরাচালান রোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় রংপুর রিজিয়ন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। রংপুর রিজিয়নের আওতাধীন ১,৬৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় ০৪টি সেক্টর ও ১৫টি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বছরজুড়ে বিজিবির কঠোর নজরদারি ও অভিযানে ৫৫৬ জন আসামীসহ প্রায় ৬৭ কোটি টাকার বেশি মূল্যের চোরাচালানী মালামাল আটক করা হয়েছে।
চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য আটক
বিজিবির অভিযানে আটক হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে —
ফেন্সিডিল ৭৩,০৮৪ বোতল, হেরোইন ৯.৭৭৭ কেজি, কোকেন ২.০৬১ কেজি, মদ ১২,৯৬৯ বোতল, গাঁজা ২,৩৫৩ কেজি, ইয়াবা ২৬,১১৫ পিস, ইস্কাফ সিরাপ ৫,২৮৮ বোতল, মেটাডক্সিন ট্যাবলেট ৪,০৩,৯৭৫টি, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১১,৯৮৬টি, নেশাজাতীয় ইনজেকশন ৮৭,১০৭টি এবং ভায়াগ্রা/ভিগো ট্যাবলেট ১২,৯৮,০০৩টি।
অস্ত্র ও গোলাবারুদ হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে ০১টি বিদেশী পিস্তল (০৬ রাউন্ড গুলিসহ), ০৬টি এয়ারগান, ৩৩,১০০টি এয়ারগানের সিসা, ০৭ কেজি গান পাউডার, ৯৯টি ককটেল এবং ৪০টি পেট্রোল বোমা।
এছাড়া গরু ১,৬৯৩টি, মহিষ ৭০৩টি এবং অন্যান্য মূল্যবান পণ্য যেমন কষ্টি পাথর, স্বর্ণ, রৌপ্য, পোশাক, মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন, নৌকা, ভারতীয় জাল রুপি ও কারেন্ট জালসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
মানব ও জাল টাকা পাচার প্রতিরোধে অভিযান
মানব পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং পাচারের কুফল সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালাচ্ছে। একইভাবে জাল টাকা পাচার রোধে সীমান্তে কড়া নজরদারি, চেকপোস্টে তল্লাশি ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবির ভূমিকা
সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজায় সীমান্ত এলাকায় ৮০৭টি পূজামণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৩৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন ছিল। তাদের পেশাদার দায়িত্ব পালনের ফলে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। বেসামরিক প্রশাসনের অনুরোধে বিজিবি যেকোনো উদ্ভূত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।
আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সাফল্য
সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, নারী ও শিশু পাচার, মাদক ও গবাদিপশু চোরাচালান রোধে বিজিবি ২৪ ঘণ্টা টহল পরিচালনা করছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সীমান্ত অতিক্রম না করা ও অবৈধ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে মাইকিং, সভা ও জুমার নামাজের মাধ্যমে নিয়মিত প্রেষণা দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে ৪,০১১টি পতাকা বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে প্রায় শতাধিক চোরাকারবারী স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।
নতুন বিওপি নির্মাণ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম
রংপুর রিজিয়নের সীমান্তে নতুন ০৬টি বিওপি (বর্ডার আউট পোস্ট) নির্মাণের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরে রংপুর রিজিয়নের অধীনস্থ ব্যাটালিয়নসমূহ ২৩,৩৭৯টি জনসচেতনতামূলক সভার আয়োজন করেছে।
জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম
অপারেশনাল দায়িত্বের পাশাপাশি বিজিবি সীমান্তবর্তী গরিব ও দুঃস্থ জনগণের মাঝে আর্থিক সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।
রংপুর রিজিয়ন কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, “সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত। জনগণের সহযোগিতায় আমরা চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।“