কুমিল্লা প্রতিনিধি: ভাষা আন্দোলনের পথপ্রদর্শক ও শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কুমিল্লা শহরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক বাসভবন বেচাবিক্রির অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও ক্ষোভ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), কুমিল্লা মহানগর শাখা। ঐতিহাসিক এই বাসভবনটিকে অবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে অধিগ্রহণ করে প্রত্নতাত্ত্বিক ও জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সুরক্ষার জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (০৬ নভেম্বর, ২০২৬) এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দুর পাশাপাশি প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে ভাষা আন্দোলনের বীজ বপন করেছিলেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লা শহরের এই বাসভবন থেকেই ৮৪ বছর বয়সী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও তাঁর ছেলেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ময়নামতি সেনানিবাসে নির্যাতনের পর তাঁদের হত্যা করা হয়।
এনসিপির বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি নিয়ে একটি অশুভ চক্রান্ত চলছে। বিগত ফ্যাসিবাদের আমলের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরমা দত্ত নিজেকে ওয়ারিশ দাবি করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক এই বাড়িটি বেচাবিক্রির অপচেষ্টা করছেন। সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি বাড়িটি সংরক্ষণে কোনো ভূমিকা না রেখে এখন তা বিক্রির পাঁয়তারা করছেন, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিধন্য এই বাসভবন কেবল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি দেশের জাতীয় সম্পদ ও ঐতিহাসিক স্মারক। এই বাড়ি কোনোভাবেই হাতবদল বা বিক্রি করতে দেওয়া হবে না।
বিজ্ঞপ্তিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন; কুমিল্লা-৬ আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মনিরুল হক চৌধুরী; কুমিল্লা জেলা প্রশাসক; জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট জেলা ও জাতীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
এনসিপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে কার্যকর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বাসভবনটি অধিগ্রহণ করে স্থায়ীভাবে জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।





