মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী গাজীপুর মহানগরের সরকারি মহিলা কলেজ থেকে জুলাই চত্বর এলাকা যানজট ও শব্দদূষণমুক্ত করার লক্ষ্যে মাসব্যাপী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ পরিকল্পনার আওতায় নির্দিষ্ট সড়ককে ‘বাফার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অন্যান্য অননুমোদিত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এ উপলক্ষে অংশীজনদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া। সভায় সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট নিরসন এবং শব্দদূষণ কমাতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
সভায় গৃহীত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্র ও শনিবার ব্যতীত সপ্তাহের অন্যান্য দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারিত বাফার জোনে কোনো ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা ও প্যাডেলচালিত রিকশা চলাচল করতে পারবে না। সড়কটিতে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত ১৩টি সংযোগ সড়কের মুখে পুলিশ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ব্যারিকেড স্থাপন করে এসব যানবাহনের প্রবেশ বন্ধ করা হবে। এ কার্যক্রম বিআরটিএ, গাজীপুর ডিউটি রোস্টারের মাধ্যমে সমন্বয় করবে।
রঙভিত্তিক চলবে অনুমোদিত ১০০ অটো
বাফার জোনে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে সপ্তাহভিত্তিক রঙ নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে শুধুমাত্র ১০০টি পাঁচ আসনবিশিষ্ট অনুমোদিত অটো চলাচল করতে পারবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাসের প্রথম সপ্তাহে সবুজ, দ্বিতীয় সপ্তাহে হলুদ, তৃতীয় সপ্তাহে পিঙ্ক এবং চতুর্থ সপ্তাহে লাল রঙের অটো চলাচল করবে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন প্রতি সপ্তাহের জন্য পৃথকভাবে ১০৫টি করে অটো অনুমোদন করবে। নির্ধারিত সপ্তাহে একটি রঙের অটো বাফার জোনে চলাচল করলে অন্য তিন রঙের অটো ওই সড়কের বাইরে চলবে।
অটোর রঙ নকল ও অননুমোদিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি অনুমোদিত অটোর গায়ে কিউআর কোড সংযুক্ত করবে সিটি কর্পোরেশন।
হর্ন বাজানো ও যেখানে-সেখানে দাঁড়ানো নিষিদ্ধ
বাফার জোনে চলাচলকারী অনুমোদিত অটোর চালকরা কোনো ধরনের হর্ন বাজাতে পারবেন না। নির্ধারিত রুটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া ২০ টাকার বেশি নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া নির্ধারিত ১৩টি সংযোগ সড়কের মোড় ব্যতীত অন্য কোথাও অটো দাঁড় করানো যাবে না।
১৩টি সংযোগ সড়কে থাকবে বিশেষ নজরদারি
কর্মপরিকল্পনায় আরও বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও সিএনজি নির্ধারিত ১৩টি সংযোগ সড়কে অবস্থান ও চলাচল করতে পারবে। তবে বাফার জোনে প্রবেশের সংযোগ মুখ থেকে ৬০ মিটার দূরত্ব থেকেই এসব যানবাহনকে ইউটার্ন নিতে হবে।
এ কার্যক্রম তদারকিতে পুলিশ সদস্য, সিটি কর্পোরেশনের কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউট ও স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্ধারিত স্থানে ব্যারিকেড স্থাপনের মাধ্যমে যানবাহনের প্রবেশ ও চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাজীপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যানজট ও শব্দদূষণ কমবে। পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।







