বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও উদ্ভাবনকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজারমুখী করা এবং গ্র্যাজুয়েটদের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সুফিয়া কামাল অডিটোরিয়ামে ‘গবেষণাকে বাজারের সঙ্গে সংযুক্তকরণ: শিল্প-একাডেমিয়া অংশীদারত্বের মাধ্যমে গাকৃবির উদ্ভাবনের সম্ভাবনা উন্মোচন’ এবং ‘ডিগ্রির পরবর্তী ধাপ: গাকৃবির গ্র্যাজুয়েটদের বহুমুখী কর্মজীবনের পথনির্দেশনা’ শীর্ষক সেমিনার দুটি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। উভয় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
প্রথম সেমিনারে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের ৩০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক, গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশগ্রহণ করেন। এতে গবেষণালব্ধ ফলাফল বাণিজ্যিকীকরণ, উদ্ভাবনকে বাস্তব প্রয়োগে রূপান্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি.কে.এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে আত্মনির্ভরশীল ও উদ্ভাবনী প্রজন্ম গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রিতে ৮০০ কোটি টাকার অর্থায়নের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) দক্ষতা অর্জন, তৃতীয় একটি ভাষা শেখা এবং তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।
দ্বিতীয় সেমিনারে শিক্ষার্থীদের জন্য বহুমুখী কর্মজীবনের সুযোগ, পেশাগত দক্ষতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আউটরিচ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহেদুর রহমান।






