৫ হাজার প্রতিযোগী থেকে চূড়ান্ত পর্বে ২০৫ হাফেজ-হাফেজা, পুরস্কার পেলেন ১৭ পুরুষ ও ৮ নারী
কূটনৈতিক প্রতিবেদক: পবিত্র কুরআন ও হাদিস মুখস্থকরণে অসাধারণ দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের ২৫ জন হাফেজ ও হাফেজাকে পুরস্কার ও সম্মাননা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত সৌদি আরবের দূতাবাস। জাতীয় পর্যায়ের কোরআন ও হাদিস মুখস্থকরণ প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর চূড়ান্ত পর্ব শেষে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দূতাবাসের বারিধারার মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ এবং আটজন নারী। তাঁদের হাতে মূল্যবান উপহার, স্মারক ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবিয়াহ।
সৌদি আরবের ইসলামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, দাওয়াহ ও নির্দেশনা বিভাগের উদ্যোগে এবং ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের ধর্মীয় অ্যাটাশে কার্যালয়ের মাধ্যমে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে পৃষ্ঠপোষকতা দেন সৌদি রাষ্ট্রদূত।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় পাঁচ হাজার নারী-পুরুষ প্রতিযোগী অংশ নেন। তাঁদের মধ্য থেকে বাছাই করে ২০৫ জন হাফেজ ও হাফেজাকে ঢাকায় অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হয়। কঠোর মূল্যায়ন শেষে বিভিন্ন বিভাগে ২৫ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌদি দূতাবাসের ধর্মীয় অ্যাটাশে মুবারক বিন আমেক আল-ওনাজি এবং বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ বিভাগের পরিচালক ড. হারুনুর রশিদ। এ ছাড়া দূতাবাসের রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক পরিচালক ইয়াসির শেশাহসহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ইসলামি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক, হিফজ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, আলেম-ওলামা, দাঈ, মসজিদের ইমাম এবং সৌদি দূতাবাসের ধর্মীয় অ্যাটাশে কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর বিন আবিয়াহ পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর শিক্ষা প্রচারে ধর্মীয় অ্যাটাশে কার্যালয়ের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম এবং সৌদি আরবের যুবরাজের নেতৃত্বে ইসলাম ও মুসলমানদের সেবায় বিশ্বব্যাপী সৌদি আরবের অঙ্গীকার অব্যাহত রয়েছে।
তিনি প্রতিযোগীদের নিষ্ঠা, ধর্মীয় অনুরাগ ও অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের অভিনন্দন জানান।
ধর্মীয় অ্যাটাশে মুবারক বিন আমেক আল-ওনাজি প্রতিযোগিতার আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার জন্য অংশগ্রহণকারী, বিচারক, ইসলামি সংগঠন এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতা তরুণ প্রজন্মকে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে উৎসাহিত করে। একই সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশ, সৌদি আরব এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।







